
মোহাম্মদপুরে বাবাকে গুলি, ছেলেকে কোপালো কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭

অপেক্ষমাণ অ্যাম্বুলেন্সের সারি। ছবি: সময় সংবাদ
হাসপাতাল ঘিরে গড়ে ওঠা অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক মাসুদ। সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় রোগী পরিবহন করতে গেলেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় এই সিন্ডিকেট। দেয়া হয় নানা ধরনের হুমকি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিন বছর ধরে রোগী পরিবহন করছেন তিনি।
মাসুদ জানান, ‘এর আগেও তিনবার আমাকে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে বাইরে আটকে রাখা হয়েছিল। তখন কেউ প্রতিবাদ করেনি। এখনো রোগী নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হলেই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকরা ফোন করে হুমকি দেন। এতে নিজের জীবন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘিরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের এমন কর্মকাণ্ড চলছে বছরের পর বছর ধরে। হাসপাতালের সামনের বিশাল জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবসা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রোগী যত বেশি মুমূর্ষু, সিন্ডিকেটের নির্ধারিত ভাড়াও তত বেশি।
হাসপাতালের সামনের বিশাল জায়গা দখল করে প্রকাশ্যেই চলছে মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে এই বাণিজ্য। নিয়মনীতি না মেনে নিজেদের ইচ্ছেমতো অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নির্ধারণ করেছে চক্রটি। মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরত্বে রোগী পরিবহনের জন্যও গুনতে হয় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাজীপুরের এই হাসপাতালে প্রতিদিন জরুরি বিভাগে গড়ে প্রায় এক হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের বিপরীতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র দুটি। আর চালক আছেন একজন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের এই স্বল্পতার সুযোগ নিচ্ছেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকরা।
হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দিনের পর দিন এমন ব্যবসা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারি এই হাসপাতালে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও উন্নত হয়নি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগী পরিবহন করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও পর্যাপ্ত চালক নেই। এ কারণে রোগীরা বাইরে থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নেন। আমাদের বিশাল জায়গা দখল করে তারা এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারেন।’
এ অনিয়মের বিষয়ে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে আমরা বিষয়টি উত্থাপন করেছি। আশা করি, শিগগিরই এর সমাধান হবে। গাজীপুরের কোনো হাসপাতালের সামনেই এই অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট চলতে দেব না।’