
এই দেশে আমার যতটা অধিকার আপনাদেরও ততটুকু, চট্টগ্রামের মণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রাম ব্যুারো
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫৪

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিরা। ছবি: সময় সংবাদ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পিকে হত্যার ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। প্রধান আসামি আরিফসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এলজি, রিভলভার ও পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— মো. আরিফ হোসেন (২৯), ফখরুল ইসলাম (৩২), আব্দুল মান্নান (২৮), মো. ইফতেখার (৩৫), আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫) এবং নুর আহাম্মদ রনি (২৬)।
শনিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, গত ১৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সীতাকুণ্ড থানার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড় সংলগ্ন পাকা রাস্তায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাতে খাবার শেষে তারেক হোসেন বাপ্পি তার বন্ধু ইমনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে স্থানীয় যুবদলের সহসম্পাদক সাদ্দামের পুরোনো অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন। এর কিছুক্ষণ আগে থেকেই প্রতিপক্ষ আরিফ ও তার গ্রুপের সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। বাপ্পি ও তার বন্ধু ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাদের গতিপথ রোধ করে এবং বাইক থেকে টেনে নামিয়ে মারধর শুরু করে।
একপর্যায়ে আরিফ হোসেন বাপ্পির গলায় গুলি করেন এবং অন্য সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। সঙ্গে থাকা ইমন গুলিবিদ্ধ হয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করলেও বাপ্পি মারাত্মক আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে তাদের ওপর আবারও হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান দুর্বৃত্তরা।
তিনি আরো জানান, নিহত তারেক হোসেন বাপ্পির সঙ্গে আরিফ হোসেন ও তার সহযোগীদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মূলত এলাকায় আধিপত্য ও ব্যবসা নিয়ে অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১৬ অক্টোবর রাতে খাবার খেয়ে যুবদলকর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি ও তার বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল করে সীতাকুণ্ড তিন রাস্তার মোড় এলাকায় যাচ্ছিলেন।এ সময় আগে থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এরপর বাপ্পি ও তার বন্ধুকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে মারধর ও এলোপাতারি কুপিয়ে জখম করা হয়। একপর্যায়ে আরিফ হোসেন, বাপ্পিকে লক্ষ্য করে বুকে গুলি করে। এতে বাপ্পি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
সঙ্গে থাকা শাওন, বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে সেও হামলার শিকার হয়। আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন।