
দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় সিদ্ধার্থ-কিয়ারা
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৪

ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর। ফাইল ছবি
অভিনয় ক্যারিয়ারে শীর্ষ অবস্থানে থাকার সময় সিনেমা থেকে বিরতি নিয়ে দেশের জন্য কার্গিল যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেতা নানা পাটেকর। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে তার সেই ভূমিকা আজও বলিউডের অন্যতম গর্বিত অধ্যায়।
দেশ ও সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর টান থেকেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিশেষ অনুমতি নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়েছিলেন অভিনেতা। নানা পাটেকরের প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ফের সামনে এসেছে তার সেই সাহসী অধ্যায়ের কথা।
তিনবার জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা সমাজসেবা ও টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি প্রাক্তন সেনাকর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কার্গিল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নানা সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সামনের সারিতে সেনাদের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এমন সিদ্ধান্তে প্রথমে তাকে অনুমতি দেয়া হয়নি। তাকে জানানো হয়, এজন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন।
এরপর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নানা পাটেকর। তিনিও বিষয়টি অসম্ভব বলেন। কিন্তু নানা জানান, কমিশনের জন্য নির্দিষ্ট ছয় মাসের প্রশিক্ষণের পরিবর্তে তিনি মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে তিন বছর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এমন অভিজ্ঞতা জানার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী অভিনেতাকে কার্গিল যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেন।
ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন কুইজ ও গেম শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ অনুষ্ঠানে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কথোপকথনের সময় নানা পাটেকর জানিয়েছিলেন, ১৯৯৯ সালের আগস্টে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় নিয়ন্ত্রণরেখার (LoC) কাছাকাছি যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন। সেখানে তিনি সেনাদের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করার পাশাপাশি কয়েক দিন বেস হাসপাতালেও কাজ করেন।
নানা আরও জানিয়েছিলেন, কার্গিলে থাকার সময় সেনাবাহিনীর কুইক রেসপন্স টিমের (QRT) সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমের কারণে যুদ্ধের সময় ৭৬ কেজি থেকে মাত্র ৫৬ কেজিতে ওজন নেমে আসে তার।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকর। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে তার অভিনয়জীবনের সূচনা হয়।
হিন্দি ও মারাঠি ভাষায় একাধিক সিনেমা করেছেন নানা পাটেকর। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে-‘পারিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘আব তাক ছাপ্পান’, ‘ওয়েলকাম’, ‘নটসম্রাট’ ও ‘রাজনীতি’।