
ওটিটিতে মুক্তি পেল 'আওয়ারাপান ২'
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫১

বলিউডের পর্দায় কখনো দাপুটে পুলিশ কর্মকর্তা, কখনো হাস্যরসাত্মক চরিত্র, আবার কখনো গভীর আবেগের অভিনয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন নানা পাটেকর। প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন এই অভিনেতা। গত ৮ অক্টোবর ৭৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুর পর অভিনয়জীবনের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে তাঁর সম্পদ, বাড়ি ও সাদামাটা জীবনযাপন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নানা পাটেকরের উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে ছিল মুম্বাইয়ের একটি ফ্ল্যাট, গোয়ার একটি বাড়ি এবং পুনের কাছে খামারবাড়ি। মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাটটি প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুনের খড়কওয়াসলা এলাকায় তার প্রায় ২৭ একরের একটি খামারবাড়ি ছিল বলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে এসব সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য, মালিকানার পূর্ণ বিবরণ এবং অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের নির্ভরযোগ্য সমন্বিত হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন বিনোদন ও আর্থিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যারিয়ারের শেষ দিকের বছরগুলোতে নানা পাটেকর সিনেমাপ্রতি আনুমানিক ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ভারতীয় রুপি পারিশ্রমিক নিতেন। তবে এই অঙ্ক তাঁর সব সিনেমার জন্য প্রযোজ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের আয় ছাড়াও পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও বিজ্ঞাপনের কাজ থেকে উপার্জনের তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বহু কোটি টাকার সম্পদের মালিক হিসেবে আলোচনায় থাকলেও নানা পাটেকরের জীবনযাপন ছিল তুলনামূলক সাদামাটা। দামি গাড়ি কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপনের বদলে গ্রামীণ জীবন, কৃষিকাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য।
মহারাষ্ট্রের কৃষকদের সহায়তায় বন্ধু মকরন্দ আনাসপুরের সঙ্গে তিনি ‘নাম ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলেন। খরাপীড়িত কৃষক ও সংকটে থাকা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ পরিচিতি পায়। অভিনয়ের বাইরেও তাঁর এই সামাজিক কর্মকাণ্ড তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।
নানা পাটেকরের মোট সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৫০ কোটি থেকে ৮০ কোটি ভারতীয় রুপির হিসাব পাওয়া গেলেও, এগুলো আনুমানিক মূল্যায়ন—আনুষ্ঠানিক সম্পদ বিবরণী নয়। ফলে তার রেখে যাওয়া সম্পদের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
তবে তার দীর্ঘ অভিনয়জীবন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা এবং কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সমাজে তার পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, মানিকন্ট্রোল, এনডিটিভি