
৯ দিনের মাথায় ফের কমলো স্বর্ণের দাম
বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৬

লিখটেনস্টাইনের একটি দৃষ্টিনন্দন জায়গা। ইউরোপের ছোট এই দেশের মানুষের মাথাপিছু জিডিপি ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ ডলার। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর বেশির ভাগই ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ায় অবস্থিত। উচ্চ উৎপাদনশীলতা, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, উন্নত শিল্প এবং আর্থিক সেবা খাত এসব দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনের ২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ডলারে নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ভিত্তিতে মাথাপিছু জিডিপির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে লিশটেনস্টাইন। এরপর রয়েছে লুক্সেমবার্গ ও আয়ারল্যান্ড।
আইএমএফের ২০২৬ সালের এপ্রিলের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে পূর্বাভাস ও প্রাক্কলন দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির ডেটাম্যাপারেও চলতি মূল্যে মাথাপিছু জিডিপির তথ্য পাওয়া যায়।
তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা লিশটেনস্টাইনের মাথাপিছু জিডিপি ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ ডলার। আল্পস পর্বতমালার ছোট এই দেশটির অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়েছে উন্নত আর্থিক সেবা খাত, বিশেষায়িত উৎপাদনশিল্প এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগের কারণে।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা লুক্সেমবার্গের মাথাপিছু জিডিপি ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৩৩ ডলার। দেশটির শক্তিশালী আর্থিক সেবা খাত এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়েছে।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে আয়ারল্যান্ড, দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ১ লাখ ৪০ হাজার ১৮৬ ডলার। প্রযুক্তি, ওষুধশিল্প এবং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী বিভিন্ন খাতে বহুজাতিক কোম্পানির বড় বিনিয়োগ দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সুইজারল্যান্ডের মাথাপিছু জিডিপি ১ লাখ ২৬ হাজার ১৭৭ ডলার, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতির অবস্থানে রেখেছে। আর্থিক সেবা, ওষুধশিল্প, সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি উৎপাদন এবং দক্ষ কর্মশক্তি এর অর্থনৈতিক শক্তির প্রধান ভিত্তি।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ১ লাখ ১০ হাজার ৪৮ ডলার। জনসংখ্যা কম হলেও পর্যটন, মৎস্যসম্পদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বিশেষায়িত বিভিন্ন খাতের ওপর ভর করে উচ্চ আয়ের অর্থনীতি গড়ে তুলেছে দেশটি।
ষষ্ঠ স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু জিডিপি ১ লাখ ৭ হাজার ৭৫৮ ডলার। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এই সমৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
নরওয়ে রয়েছে সপ্তম স্থানে, মাথাপিছু জিডিপি ১ লাখ ৫ হাজার ৮৭৭ ডলার। তেল ও গ্যাসসহ বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং বড় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল দেশটির অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
অষ্টম স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু জিডিপি ৯৪ হাজার ৪৩০ ডলার। শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ, যার জনসংখ্যা কয়েকশ কোটি নয়, বরং কয়েকশ মিলিয়ন বা কয়েক দশ কোটি। প্রযুক্তি, অর্থায়ন, উৎপাদনশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদনসহ বহুমুখী খাতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশটির বিশাল অর্থনীতি।
তালিকার নবম ও দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডস। ডেনমার্কের মাথাপিছু জিডিপি ৮৩ হাজার ৪৪৫ ডলার এবং নেদারল্যান্ডসের ৭৯ হাজার ৯১৮ ডলার। উন্নত অবকাঠামো, উচ্চ উৎপাদনশীলতা, শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ক দেশ দুটির অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তবে মাথাপিছু জিডিপি ব্যক্তিগত আয় বা পারিবারিক সম্পদের সমান নয়। একটি দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে এ সূচক নির্ধারণ করা হয়। বহুজাতিক কোম্পানির কার্যক্রম, জনসংখ্যার আকার এবং বিনিময় হারের মতো বিষয়ও এ হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
তারপরও ২০২৬ সালের এই প্রাক্কলন বিশ্বের সর্বোচ্চ মাথাপিছু জিডিপির দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরে। তালিকাটি দেখায়, ছোট অর্থনীতির দেশও মাথাপিছু উৎপাদনে অনেক এগিয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতি বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি উচ্চ মাথাপিছু উৎপাদনও ধরে রাখতে পারে।
সূত্র: সিসিয়াস্ট্যাটস