
ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব মোবাইল অপারেটরদের
তাসলিম তৌহিদ
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৮

গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বলা হয়, ১৪ বছরে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। সে হিসাবে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীরা বছরে গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন।
পাচার হওয়া এসব অর্থ উদ্ধারে দুদক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সমন্বয়ে কাজ করছে জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (জিট)। যৌথ এই টিমের অনুসন্ধানের তালিকায় রয়েছে শেখ হাসিনার পরিবার, এস আলম, সাইফুজ্জামান, নাসা, বেক্সিমকো, বসুন্ধরা ও ওরিয়নসহ ১১টি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব-সম্পর্কিত কমিটিতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে যৌথ টাস্কফোর্স। এতে বলা হয়েছে, এই ১১টি শিল্পগোষ্ঠীর দেশে-বিদেশে প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে দেশে ৫৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশে ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদ জব্দের আদেশ রয়েছে। এসব ঘটনায় করা হয়েছে ১৪২টি মামলা। এ ছাড়া ১৫৮ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। ১০ জনের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে রেড নোটিশ।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিমের অনুসন্ধান ও তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে ক্রস-বর্ডার ইনভেস্টিগেশন। আইনি কাঠামোর আওতায় এসব অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থের সন্ধান করা হয় এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা হয়। পাশাপাশি সম্পদ জব্দ, ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার কার্যক্রমও চালানো হয়।’
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে তৎপরতার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে তথ্য চেয়ে ৩০টি চিঠি পাঠিয়েছে যৌথ টাস্কফোর্স। তবে সব দেশে দুর্নীতির ধরন ও আইনি কাঠামো এক না হওয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মনে করেন দুদক সচিব।
সাইদুর রহমান খান আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে, আমাদের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে হয়। আমরা যখন মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠাই, তখন সংশ্লিষ্ট দেশে আমাদের দেশের অপরাধটি যদি তাদের আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত না হয়, কিংবা তাদের নীতিমালায় এর প্রতিফলন না থাকে, তাহলে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতার মুখে পড়তে হয়।’
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের আন্তরিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে কঠিন হলেও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। অর্থনীতি বিশ্লেষক মাজেদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকার যদি চায়, একটি দেশের সরকার যদি চায়, রাষ্ট্রব্যবস্থা যদি চায়, তাহলে সরকার-টু-সরকার আলোচনা সফল করা সম্ভব। পাচার হওয়া সম্পদ ও অর্থের কারণে সারা পৃথিবীতে বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, এমনকি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও ঘটে। এসব বিষয় সামনে রেখে সরকার-টু-সরকার আলোচনার সক্ষমতা বাড়াতে পারলে পাচার হওয়া সম্পদ ও অর্থ ফেরত আনা সম্ভব।’
এরইমধ্যে ১৬টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনাকে আসামি করে করা ছয়টি মামলার রায় হয়েছে বলে জানিয়েছে যৌথ টাস্কফোর্সের নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান দুদক।