
ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৩০০
স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২২

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং মাইক্রোসকপিক ও এন্ডোসকপিক নিউরোসার্জন ডা. রকিবুল ইসলাম রকিবের সঙ্গে শিশুটি। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিখ্যাত হাসপাতালের চিকিৎসক যেখানে ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচার করতে অস্বীকার করেছিল। সেখানে বাংলাদেশের চিকিৎসকের ভিন্নরকম চিকিৎসাকৌশলে নতুন জীবন পেয়েছে শিশুটি। ব্রেইনের গভীরে বিপজ্জনক ‘ক্যাভারনোমা’ (Cavernoma) নামক রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত এ শিশুটি কোনো ধরনের প্যারালাইসিস বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এখন পুরোপুরি সুস্থ।
শিশুটির মাথায় মারাত্মক ব্রেইন টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর স্বজনরা তাকে প্রথমে দেশেই একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তবে সেই চিকিৎসক পরামর্শ দেন এটি দেশে সম্ভব নয়। শিশুটিকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি। এরপর পরিবারটি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ভেলোরে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে (সিএমসি) পাড়ি জমায়।
তবে সিএমসি’র চিকিৎসকরা পরীক্ষার পর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অস্ত্রোপচার করলে শিশুটির শরীরের ডানপাশ স্থায়ীভাবে অবশ বা প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কোনো আশা না দেখে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে ভেলোর থেকে দেশে ফিরে আসে শিশুটির পরিবার।
পরে শিশুটির প্রবাসী বাবা সন্ধান পান বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আধুনিক ব্রেইন টিউমার সার্জন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং মাইক্রোসকপিক ও এন্ডোসকপিক নিউরোসার্জন ডা. রকিবুল ইসলাম রকিবের। সব দুশ্চিন্তার অবসান ঘটিয়ে শিশুটির জীবন বাঁচানোর এই কঠিন চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেন ডা. রকিব। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে শিশুটির ব্রেইনে সফল মাইক্রোসার্জারি পরিচালনা করেন।
ডা. রকিবুল ইসলাম রকিব বলেন, ‘শিশুটির ব্রেইনের গভীরে Cavernoma নামক টিউমারটি অবস্থান করছিল। সাধারণভাবে বা প্রচলিত কৌশলে (Common Technique) এই টিউমার অপসারণ করতে গেলে ডান পাশ প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল, ভেলোরের চিকিৎসকদের আশঙ্কাটি সঠিক ছিল। তবে আমরা প্রচলিত পথের বাইরে গিয়ে একটি ভিন্ন পথ—'Long & challenging route for Surgeon but safe route for patients. (দীর্ঘ কিন্তু নিরাপদ পথ) বেছে নিই। এই বিশেষ টেকনিক ব্যবহার করে আমরা শিশুটির মস্তিষ্ক বা স্নায়ুর কোনো ক্ষতি না করে পুরো ক্যাভারনোমা টিউমারটি সফলভাবে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছি।’
অস্ত্রোপচার শেষে শিশুটি এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। চিকিৎসকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, শিশুটির ডান হাত ও পায়ের শক্তি ও স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা একদম অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে। দেশের চিকিৎসকদের এমন অভাবনীয় সাফল্য দেশে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও জটিল নিউরোসার্জারির ক্ষেত্রে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশেও জটিল রোগের চিকিৎসা খুবই সফলভাবে হচ্ছে। দেশের মানুষ অনৈক সময় না বুঝেই ভারত বা বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাড়ি জমান।
এদিকে কলকাতার দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মহিত। তিনি বলেছেন, আমাদের চিকিৎসকরা দিনরাত পরিশ্রম করে। বরং কলকাতার ওরা আমাদের থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে।