
চার মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিমধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার মূল উৎস ইসরাইলি দখলদারিত্ব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৫১

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি সংগৃহীত
ইসরাইলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসরাইলের নির্বাচনে না জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সাংবাদিক মার্ক হ্যালপেরিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এ কথা বলেন। এর ঠিক এক দিন আগে নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমি তাকে (নেতানিয়াহু) সমর্থন করার বিপক্ষে নই, আবার সমর্থনের পক্ষেও নই। ইসরাইলের নির্বাচনে আমি জড়াচ্ছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীদের সমর্থন করি। আমার মনোযোগ এখন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরেই।’
গত এপ্রিলে হাঙ্গেরিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে সমর্থন জানিয়েছিলেন ভ্যান্স। তবে নির্বাচনে পিটার ম্যাগায়ারের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যান অরবান।
এদিকে দুই মেয়াদেই নেতানিয়াহু ও তার ডানপন্থি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন ট্রাম্প। প্রথম মেয়াদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করেন, গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেন এবং ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিন ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন ট্রাম্প।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ইসরাইলে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী জেডি ভ্যান্স রিপাবলিকান দলের মধ্যে ইসরাইলকে নিঃশর্ত সমর্থন দেয়ার বিরোধিতাকারীদের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় রিপাবলিকান কিছু সমর্থকদের মধ্যে এই অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
যদিও ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন ভ্যান্স, তবুও নেতানিয়াহুর নির্বাচনী জোটের প্রতি তার অঙ্গীকার নিয়ে ইহুদি রিপাবলিকানদের একাংশ সংশয় প্রকাশ করেছেন।
এর আগে গত জুনে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল ইসরাইল। ওই সময় ভ্যান্স বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিটি সমস্যা সমাধানের জন্য শুধু মানুষ হত্যা করে যেতে পারেন না।’
এ ছাড়া ট্রাম্পকে বিচ্ছিন্ন না করার জন্য নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভাকে সতর্ক করে ভ্যান্স বলেন, ইসরাইলের হাতে এখন ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’ হলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং ভ্যান্সের সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির অবস্থানে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়ানো এড়াতে ট্রাম্পের অবস্থানের কারণে ইসরাইলি ভোটারদের একাংশ তার ওপর অসন্তুষ্ট।
২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইয়াশার পার্টি। দলটির নেতা ও ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট জানিয়েছেন, সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে জোট গড়ার চেষ্টা করবেন তিনি।
সূত্র: আল জাজিরা