
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৯

রোববার (১১ অক্টোবর) নেপালের গোরখায় আকস্মিক বন্যায় ৩৫টিরও বেশি বাড়িঘর ও সেতু ভেসে গেছে। ছবি: সংগৃহীত
হিমালয়-ঘেরা নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির মাত্র দেড় মাসের মাথায়, রোববার (১১ অক্টোবর) দেশটির গোরখায় আকস্মিক বন্যায় ৩৫টিরও বেশি বাড়িঘর ও সেতু ভেসে গেছে এবং একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গোরখা জেলার চুম্নুবরি গ্রামে এই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এর কারণ ছিল বুধি গণ্ডকী নদীর (যা ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী) পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়া; এই নদীরই আরেকটি উপনদীর অববাহিকায় গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় ১,৪৫৭ জন মানুষ প্রাণ হারান এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, নদীটির পানি সম্পূর্ণ কালো ও ধূসর হয়ে গেছে এবং ঘন কাদা ও আবর্জনা বয়ে যাচ্ছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, পানির স্তর সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ৩.৬৬ মিটার থেকে বেড়ে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ৮.৪৩ মিটারে পৌঁছায়, যা ৫ মিটারের বিপদসীমার অনেক উপরে।
আরও জানানো হয়, সকাল ৮:৩০ থেকে ৮:৪০-এর মধ্যে ১০ মিনিটের ব্যবধানে পানির স্তর দুই মিটারেরও বেশি বেড়ে যায়।
এনডিআরআরএমএ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘বন্যা সেতুসহ পরিমাপ কেন্দ্রটিও ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।’
বন্যার কারণ বৃষ্টি ছিল না বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘প্রাথমিক তথ্য ও উপগ্রহ চিত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে যে, নদীটির প্রবাহ কোনোভাবে রুদ্ধ হওয়ার পর তা ভেঙে যাওয়ায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কারিগরি বিশ্লেষণ চলছে।’
স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
নদীর উপকূলীয় ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে এবং নদীর তীর ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য আকাশ ও স্থলপথে নেপালি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি