
সব বিক্রি করে বিয়ের স্বপ্ন, ১২০০ মাইল পাড়ি দিয়ে জানলেন সেই নারী ‘এআই’!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫০

প্যারিস, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা দাঙ্গাকারীদের দেখা যায়। ছবি: রয়টার্স
জীবনযাত্রার ব্যয় ঘিরে ফ্রান্সে নজিরবিহীন দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। শনিবার ব্যাপক বিক্ষোভের পর রোববারও (১৮ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলা হয়েছে।
এলিসি প্রাসাদ থেকে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে বিক্ষোভকারীদের পরিস্থিতি আর উত্তপ্ত না করার আহ্বান জানান ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমরা সবাই ক্ষোভ ও লজ্জা অনুভব করছি।’
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্কুলসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে শনিবার ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভের বেশির ভাগ শান্তিপূর্ণ হলেও পরে বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা ও লুটপাট ছড়িয়ে পড়ে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভকারীদের ‘যৌক্তিক দাবি’ এবং যারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের লাগামহীন সহিংসতার কোনো যুক্তি নেই। যারা এতে জড়িত, তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিস, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা দাঙ্গাকারীদের দেখা যায়। তাদের অনেকে গাড়ি ও ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। রোববার প্যারিস ও লিওঁর কিছু এলাকায় কম মাত্রায় বিক্ষোভ হলেও লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রোববার প্যারিসে কয়েক শ মানুষের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছুড়েছেন।
লিমোজ শহরে শনিবার দাঙ্গাকারীদের লাগানো আগুনে ১৯ শতকে নির্মিত ঐতিহাসিক সিটি হলের বড় অংশ পুড়ে যায়। আগুনে ভবনটির ঘড়ির টাওয়ার ও ছাদ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছে অ্যানেইসে নামের এক নারী বলেন, ‘এটি খুবই কষ্টদায়ক। সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ঐতিহ্যবাহী ভবন ধ্বংস করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে সবার ক্ষতি হচ্ছে।’ জেরার্ড নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘এটি ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য। আমরা খুবই দুঃখিত।’
ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, দোকানপাট ও সরকারি ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মেয়ররা বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবেন। বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ‘পূর্ণ স্বচ্ছতা’ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবারের সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।
সূত্র: বিবিসি