
দিল্লিজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়: আটক প্রায় ৫ হাজার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:১২

অধিকারকর্মী ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ থেকে এবার আটক হয়েছেন অধিকারকর্মী ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) আইএনএ মার্কেটের কাছে বিক্ষোভ মিছিল থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষণ এবং সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকেও আটক করা হয়।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে নয়াদিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় সবশেষ কয়েকজন অধিকারকর্মী, রাজনৈতিক নেতার পাশাপাশি ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকে আটক করা হলো।
এর আগে বিক্ষোভ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে দেয়া পোস্টে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘দিদিকে পুলিশ গ্রেফতার করল’। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে মমতার আটকের খবর দেয়া হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ে ধর্নায় বসার পর মমতাসহ তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে।
বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছে ককরোচ জনতা পার্টি তথা সিজেপি। সঙ্গে যোগ দিয়েছে বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো। আজ শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় তারা।
এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে সদলবলে দিল্লি বিক্ষোভে যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা। আজ সকালে সাউথ অ্যাভিনিউয়ে একটি বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী দোলা সেন, সামিরুল ইসলাম, প্রতিমা মণ্ডল ও ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ অন্যরা।
দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ধর্না থেকে সরে যেতে বলে। দিল্লিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে বলে জানানো হয়। তবে পুলিশি নির্দেশ উপেক্ষা করেই তারা ধর্না চালিয়ে যান। এরপর তাদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করে পুলিশ। শনিবার সকালে যন্তর মন্তর রোডে কেরালা হাউসের কাছে তাকে আটক করা হয়। এরপর তাকে দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
কেরালার সিপিআই(এম) নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য জন ব্রিটাস এবং কেরালার সাবেক অর্থমন্ত্রী কে এন বালাগোপালসহ আরও কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এছাড়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই মুম্বাই থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ দিল্লিতে অবতরণের পর তাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তার সঙ্গে দলের আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করা হয়েছে।
আটক করা হয়েছে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও। সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দিতে জার্মানি থেকে চলতি সপ্তাহে ভারতে আসেন তিনি। শনিবার সকালে গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬-তে তার বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।