
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়লেন সিজেপির নেতাকর্মীরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ‘বেশি দূর’ চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে আলোচনার জন্য ইরানের কোন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তা খুঁজে বের করা ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে আমরা হয়তো বেশি দূর চলে গেছি। কারণ, এখন আর বুঝতেই পারছি না, আসলে কার সঙ্গে কথা বলছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, কার সঙ্গে আলোচনা করব, তা নির্ধারণ করতে আমাদের বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা বেশি দূর চলে গেছি।’
এদিকে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনৈতিক নীতি, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় সরকারি দল রিপাবলিকানরা। ভোটের আগে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজ দলের শক্ত ঘাঁটিতেও নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে কংগ্রেস দখলের লড়াই। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা। এমারসন কলেজের সর্বশেষ জাতীয় জরিপে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৫৩ শতাংশ, বিপরীতে রিপাবলিকানদের ৪২ শতাংশ।
একই জরিপে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট মাত্র ৩৯ শতাংশ মার্কিন। অসন্তুষ্ট ৫৮ শতাংশ। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দ্রব্যমূল্য, শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের একাংশের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এমনকি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাস ও ওহাইওতেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে দলটির প্রার্থীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্বাচনী প্রচারণায় জোর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওহাইওতে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। আলাস্কাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতেও রিপাবলিকান প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে তৎপর দলটি।
আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সবগুলো এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর ও স্থানীয় আইনসভার হাজারো পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন মার্কিন ভোটাররা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট বাদে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য আইনসভার ৬ হাজার ১৩৯ আসনে নির্বাচন হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র ৪টি আসন এবং সিনেটে ৪টি আসন লুফে নিতে পারে, তবে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারাবে।