
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে জাতিসংঘ মহাসচিবের অভিনন্দন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪৮

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আদালতের সাবেক এক বিচারক নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। এতে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বিরোধ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আইসিসির উপপ্রধান আইনজীবী নাজহাত শামীম খান এ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসির বিরোধিতা করে আসছে। এর আগে আদালতের আইনজীবী ও বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে শুক্রবারের পদক্ষেপ আরও বিস্তৃত হতে পারে। কারণ এর আওতায় আদালতকে বিভিন্ন সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই আজ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। আমরা এই নিয়ন্ত্রণহীন আদালতের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করব, এর সম্পদের প্রবাহ বন্ধ করে দেব এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেব।’
আইসিসির উপপ্রধান আইনজীবী নাজহাত শামীম খান রয়টার্সকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানানো উচিত। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠান যে কাজ করছে, তা দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আমাদের সব পরিস্থিতি, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় কাজ অব্যাহত থাকবে।’
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের অতীতের একটি তদন্ত নিয়েও ওয়াশিংটনের আপত্তি ছিল। ওই তদন্ত অবশ্য পরে বন্ধ করে দেয় আইসিসি।
যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্যদেশসহ মোট ১২৫টি দেশ এর সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটো জোটের অন্য সব সদস্যদেশও আদালতটির সদস্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্রদের অনেক দেশসহ সদস্যরাষ্ট্রগুলো অতীতে আদালটির প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছে। আদালটির সদর দফতর নেদারল্যান্ডসে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো উভয়েরই সদস্য।
আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারে অবদানের জন্য আজ শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল চেম্বারের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুরস্কার ঘোষণার বিবৃতিতে নোবেল কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের বিচারক ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে, তখন তারা ‘একটি স্মরণবার্তা’ দিতে চেয়েছে।
কমিটি আরও বলেছে, ‘এমন একটি আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা, যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয় এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পান, তা শান্তিপূর্ণ বিশ্বের পূর্বশর্ত।’