
সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বেঙ্গালুরুতে বিক্ষোভ, দীপকের সাথে হাত মেলালেন ধ্রুব রাঠি-প্রকাশ রাজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮

ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সমর্থন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। একই সঙ্গে গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধে’ ওয়াশিংটনের ‘সহযোগিতার’ নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
গাজায় ইসরাইলি সরকারের ধ্বংসাত্মক আগ্রাসন শুরুর তিন বছর পূর্তিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, তেল আবিবে পাঠানো প্রতিটি অস্ত্রের চালানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ‘সহযোগিতা’ রয়েছে। তিনি এমন ‘একটি বিশ্বকে’ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান, যেখানে দখলদারিত্ব ও বর্ণবাদী ব্যবস্থা অব্যাহত থাকে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের কথা উল্লেখ করে মামদানি বলেন, ওই দিন ইসরাইল গাজায় যুদ্ধ শুরু করলেও ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ ‘সেদিন শুরু হয়নি, সেদিন শেষও হয়নি’।
নিউইয়র্কের মেয়র বলেন, ‘নিহতদের সম্মান জানাতে হলে আমাদের এমন একটি বিশ্বের জন্য লড়াই করতে হবে, যেখানে প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারে।’
বছরের পর বছর ধরে চলমান দখলদারি ও জাতিগত নিধনযজ্ঞের জবাবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।
প্রতিক্রিয়ায় গাজায় সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। দুই বছর পর ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইল হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করেছে।
গত তিন বছর ধরে চলমান ইসরাইলি হামলায় এক সময়ের সাজানো-গোছানো গাজা উপত্যকা এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অন্তত ৭৪ হাজার ২৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও লক্ষাধিক। ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে লাখ লাখ মানুষ।
শুরু থেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনগুলো ইসরায়েলকে ব্যাপক সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এর বড় একটি অংশই কোনো শর্ত ছাড়াই দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারের একটি বড় অংশ। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, ভারী গোলাবারুদ, ট্যাংক ও অন্যান্য সাঁজোয়া যান। পাশাপাশি রয়েছে আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং ও আয়রন বিমের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার নথিভুক্ত করেছে যে, গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার মতো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ২৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। এসব অর্থ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের অর্থ থেকেই তা বহন করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি