
দিল্লিতে আটক অভিজিৎ দিপকে, গ্রামের বাড়িতে দাদির মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১৭

নিউইয়র্কে গাড়ির ভেতর বসে থাকা ব্যক্তির ওপর গুলির ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: এপি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে নিজের পাঁচ বছর বয়সি শিশু সন্তান নিয়ে গাড়ির ভেতর বসে থাকা এক নিরস্ত্র ব্যক্তিকে গুলি করেছেন দেশটির অভিবাসন সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এক কর্মকর্তা। এতে শিশুটি অক্ষত থাকলেও গুরুতর আহত হয়েছেন ওই ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ব্রঙ্কসের মার্বেল হিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর নিউইয়র্কজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ঘটনাটিকে ‘অবিবেচনাপ্রসূত ও অত্যন্ত গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছেন। প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার গাড়ির ভেতরে থাকা ওই ব্যক্তি ও পাঁচ বছর বয়সি শিশুটিকে ঘিরে ফেলেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। এরপর তারা একাধিক গুলি ছোড়েন।
মামদানি বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। নিউইয়র্ক শহরে আইসিইর সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আইসিই এজেন্টরা আমাদের জনপদে আতঙ্ক ছড়াবে, আর আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে তা দেখব, এমনটা হতে পারে না।’
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে মামদানি আরও বলেন, ‘আজকের গুলির ঘটনা আমাদের দীর্ঘদিনের জানা সত্যকে আরও ভয়াবহভাবে সামনে এনেছে। আইসিই দায়মুক্তি নিয়ে কাজ করে, পুরো দেশে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক ছড়ায় এবং তারা যতজন প্রতিবেশীকে বাঁচানোর দাবি করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষকে হত্যা করেছে।’
মামদানি আইসিই বিলুপ্ত করারও দাবি জানান। অন্যদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনের সঙ্গে কথা বলেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কবাসীর পক্ষ থেকে আমি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছি এবং নিউইয়র্কে আইসিইর অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত তথ্য প্রতিষ্ঠা এবং সত্য উদ্ঘাটনের জন্য গুলির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বডি ক্যামেরার সব ফুটেজ জনসমক্ষে প্রকাশ করার অনুরোধও জানিয়েছি।’
কী ঘটেছিল?
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা আইসিই জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ব্রঙ্কসে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অভিযান চালাচ্ছিলেন তাদের কর্মকর্তারা। ২৮ বছর বয়সি এক ডোমিনিকান নাগরিককে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে এ অভিযান চালানো হয়।
ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক পুলিশ তার নাম অস্কার বেলগাল বলে শনাক্ত করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানের সময় এক কর্মকর্তা অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়েন এবং ওই ব্যক্তি আহত হন। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশের কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, বেলগাল গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় ঢোকানোর সময় সাধারণ পোশাকে থাকা এক ফেডারেল কর্মকর্তা অস্ত্র তাক করে তার কাছে যান। পরে একইভাবে পোশাক পরা আরেক কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হন।
টিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলগাল গাড়িটি সামনের দিকে এগিয়ে নিতে শুরু করলে অন্তত একজন কর্মকর্তা সাতটি গুলি ছোড়েন। এর মধ্যে একটি গুলি ওই ব্যক্তির বাম কানের নিচে লাগে।
পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি তখনও সচেতন ছিলেন। তাকে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গাড়িতে থাকা শিশুটি অক্ষত রয়েছে এবং পরে তাকে এক আত্মীয়ের কাছে দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত ও বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশের দাবি
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কবাসীর পক্ষ থেকে আমি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছি এবং রাজ্যে আইসিইর অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং সত্য নিশ্চিত করতে গুলির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বডি ক্যামেরার সব ফুটেজ জনসমক্ষে প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য কারমেন দে লা রোসা বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ।’
আইসিইর কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান এবং আইসিইর কর্মকাণ্ড নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই সমালোচনা বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হন।
৭ জানুয়ারি তিন সন্তানের মা ৩৭ বছর বয়সি রেনি নিকোল গুডকে আইসিইর এক কর্মকর্তা গুলি করে হত্যা করেন। এরপর কয়েকদিন পর অ্যালেক্স প্রেট্টি নামে ৩৭ বছর বয়সি এক নার্স মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক সদস্যের গুলিতে নিহত হন।
গুড নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দেন। তবে ঘটনার ভিডিওতে তিনি একজন কর্মকর্তাকে গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সরিয়ে দেওয়া, নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের দাবি প্রত্যাখ্যান এবং মিনেসোটায় আরও শত শত ফেডারেল এজেন্ট পাঠানোর সিদ্ধান্তও সমালোচনার জন্ম দেয়।
এতে অঙ্গরাজ্যটিতে ফেডারেল এজেন্টের সংখ্যা বেড়ে প্রায় তিন হাজারে দাঁড়ায়। হত্যাকাণ্ড ও অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত শহরে।
ট্রাম্প অবশ্য অভিবাসন সংস্থার বিরুদ্ধে জনমত পরিবর্তনের জন্য গণমাধ্যমের পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ প্রচারকে দায়ী করেছেন। গ্রেফতার করা ‘সহিংস অপরাধীদের’ বিষয়ে জনসমক্ষে আরও তথ্য প্রকাশ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইসিইকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রতি বছর ১০ লাখ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইসিইকে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে সংস্থাটির সদস্যসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে জানুয়ারি নাগাদ ২২ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
গত বছর ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি কর আইনের আওতায় চার বছরে সংস্থাটির জন্য প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতে আইসিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন পাওয়া ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা