
পশ্চিম তীরে মার্কিন সাংবাদিকের ওপর হামলা, ট্রাম্প প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৪

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে সপ্তম এশিয়ায় পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতাবিষয়ক সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নতুন বসতি স্থাপন বন্ধ এবং গাজা উপত্যকায় প্রবেশের সব পথ পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারের প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে সপ্তম এশিয়ায় পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতাবিষয়ক সম্মেলন (সিআইসিএ)-এর ফাঁকে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্ন এই শতাব্দীর ‘সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার’। এ সংকটের সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই সঠিক পথ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এখনো অনেক দূরে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকে আরও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়া থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে সেখানে প্রবেশাধিকার পুরোপুরি চালু করা জরুরি। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ এবং ইতোমধ্যে নেওয়া সম্প্রসারণমূলক পদক্ষেপগুলো প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
ওয়াং ই বলেন, ফিলিস্তিন সংকটই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মূল কারণ। ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি উভয় জনগোষ্ঠীরই শান্তিতে বসবাস এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার রয়েছে। শান্তির প্রতি অবিচল অঙ্গীকার ও দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সঠিক পথে এগিয়ে চলার মধ্য দিয়েই কাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মনে করে চীন।
একই দিন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান শাহিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠকেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানান ওয়াং ই। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ জাতীয় অধিকার পুনরুদ্ধারের ন্যায্য সংগ্রামকে চীন দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। ফিলিস্তিন প্রশ্নের ন্যায়সংগত সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।
ওয়াং ই বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে লড়াই করা গাজার ২০ লাখ ফিলিস্তিনির কথাও বিশ্ববাসীর ভুলে যাওয়া চলবে না। ন্যায়বিচার বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু তা কখনো অনুপস্থিত থাকে না।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও নিপীড়িত জাতিগুলোর পাশে থাকবে চীন। বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলোতেও ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রাখবে বেইজিং।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি