
সাবেক বিচারকের শান্তিতে নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৯

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ছবি: রয়টার্স
নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাইকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, পিল্লাই দেখিয়েছেন যে, ‘আইনের শক্তিই বলপ্রয়োগের আইনের ওপর জয়ী হয়’।
আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারে অবদানের জন্য আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখা এবং গাজায় ইসরাইলের গণহত্যার সমালোচনা করা পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল চেম্বারের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ২০২১ সালে ইসরাইল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘের একটি উন্মুক্ত তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন পিল্লাই।
২০২৪ সালে আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিল্লাই জানান, ইসরাইল ও হামাসের সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাত হাজার প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে জমা দিয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন। সে সময় তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি।’
পুরস্কার ঘোষণার বিবৃতিতে নোবেল কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের বিচারক ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে, তখন তারা ‘একটি স্মরণবার্তা’ দিতে চেয়েছে।
কমিটি আরও বলেছে, ‘এমন একটি আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা, যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয় এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পান, তা শান্তিপূর্ণ বিশ্বের পূর্বশর্ত।’
পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার সময়কার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে শুরু করে রুয়ান্ডার গণহত্যা-সংক্রান্ত বিচারপ্রক্রিয়া, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।
গুতেরেস বলেন, এসব দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে পিল্লাই ‘দেখিয়েছেন যে শক্তির আইনের ওপর আইনের শক্তির প্রাধান্য থাকতে হবে এবং মানবাধিকার রক্ষা করাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা।’
তিনি আরও বলেন, এই পুরস্কার ‘আন্তর্জাতিক আইন, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে কাজ করা সবার প্রতি একটি শ্রদ্ধার্ঘ্য।’