
সৌদি ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদনে তুর্কি সংসদে প্রস্তাব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২১

সুদনের আবিয়েই মার্কেটে ড্রোন হামলা। ছবি: সংগৃহীত
গৃহযুদ্ধে জর্জরিত সুদানে ড্রোনের তাণ্ডবে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। জনবহুল বাজার ও সাধারণ মানুষের ওপর চালানো এই হামলাগুলোর সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনী যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যের দুটি এলাকায় চালানো হামলায় অন্তত ১৫০ জন নিহত হন বলে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'সুদান ওয়ার অবজারভেটরি'কে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। ২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরুর পর থেকে সংস্থাটি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
অন্যদিকে, সুদান ও দক্ষিণ সুদানের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকা আবিয়েইয়ের একটি বাজারে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ড্রোন হামলায় অন্তত ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। আবিয়েই অঞ্চলের তথ্যমন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুদানি সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনীই আবিয়েই এলাকায় হামলাটি চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই বাজারটি আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের জ্বালানি সরবরাহের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
তেলসমৃদ্ধ আবিয়েই অঞ্চলটির মালিকানা নিয়ে সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০১১ সালে সুদান থেকে আলাদা হয়ে দক্ষিণ সুদান গঠিত হওয়ার পর থেকেই যৌথভাবে পরিচালিত অঞ্চলটির মালিকানা সুরাহা হয়নি। এই হামলার ঘটনায় দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে সুদানের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ সুদান ইতোমধ্যেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। দেশটির আশঙ্কা, এই সংঘাত সীমান্ত ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
জাতিসংঘ সুদানে অস্ত্র সরবরাহের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। তবুও তা উপেক্ষা করে বিভিন্ন দেশ সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ উভয় পক্ষকেই ড্রোন সরবরাহ করে যাচ্ছে। ফলে রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধে ড্রোনই এখন হামলায় ব্যবহারের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফেন দুজারিচ সোমবার জানান, ড্রোন হামলার সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছে, যা শিশুসহ সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে এবং জরুরি পরিষেবা ব্যাহত করছে।
তিনি আরও জানান, ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশটির অন্তত দুই কোটি মানুষ মারাত্মক খাদ্যসংকটে পড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর ও গ্রেটার কর্ডোফানের বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।