
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে জাতিসংঘ মহাসচিবের অভিনন্দন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১

সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ইন্টারনেট বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে যন্তর মন্তর এলাকাজুড়ে ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে নিরাপত্তার কারণে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল হওয়ার ফলে ভারতের রাজধানীজুড়ে যাত্রীরা ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ২৩ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের মাধ্যমে দিল্লিতে এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
এ পরিস্থিতিতে কংগ্রেস ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া ব্লক’ শুক্রবার রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
১০ অক্টোবর প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোর দিকে জনসমাগম এগিয়ে আসার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৯টা থেকে সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর মধ্য দিয়ে চলাচলকারী মেট্রো ট্রেনগুলোও কম চলবে।
এই বিধিনিষেধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন ও নিত্যযাত্রীদের ব্যবহৃত রুটসহ শহরের বিভিন্ন অংশে চলাচল ব্যাহত হতে পারে। যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা যাত্রা শুরুর আগে পরিষেবাসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য জেনে নেন।
সূত্রের বরাতে এনডিটিভি বলছে, দিল্লিতে মোট ২৩ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে ২২১টি সিএপিএফ কোম্পানি মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে; এর বাইরেও দিল্লি পুলিশকে অতিরিক্ত ১১০টি সিএপিএফ কোম্পানি দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৮৫টি কোম্পানি, সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) ১০টি, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) সাতটি, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সাতটি এবং সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (সিআইএসএফ) একটি কোম্পানি।
তারা জানান, সেখানে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বা নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকবে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, রাজধানীজুড়ে ‘ফেস রিকগনিশন সিস্টেম’ প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানো হবে। এছাড়া উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানাসহ পার্শ্ববর্তী সব রাজ্যকে বিক্ষোভ চলাকালে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।