
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৩

পিটিআই-এর লংমার্চ কোহাটে পৌঁছানোর একদিন পরই ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত জানিয়েছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার। ছবি: সংগৃহীত
জনশান্তি এবং জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার প্রতি ‘গুরুতর ও আসন্ন হুমকি’র কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুরো প্রদেশে ১০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে এবং পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চ কোহাটে পৌঁছানোর একদিন পরই ১৪৪ ধারা জারির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, খাইবার-পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি সেই গাড়িবহরের (লংমার্চে) নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা গেল রোববার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তি এবং পিটিআই-এর ভাষায় বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অভিযোগের বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, লাক্কি মারওয়াত ও কারাক হয়ে আসার পর গাড়িবহরটি বর্তমানে কোহাটে অবস্থান করছে। রাজধানীর দিকে দলের পর্যায়ক্রমিক অভিযাত্রার অংশ হিসেবে আজই এর পেশোয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পাঞ্জাব স্বরাষ্ট্র বিভাগের জারি করা এক আদেশের মাধ্যমে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪(৬) ধারার আওতায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পাঞ্জাব প্রদেশজুড়ে জনশান্তি, শৃঙ্খলা এবং জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার প্রতি জঙ্গি/সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর দিক থেকে গুরুতর ও আসন্ন হুমকি রয়েছে।’
এতে আরও বলা হয়েছে, “পাঞ্জাবজুড়ে বড় ধরনের জনসমাগম চলাকালে আত্মঘাতী বোমা হামলা, গাড়িতে স্থাপিত বিস্ফোরক (ভিবিআইইডি) এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বা ‘টার্গেট কিলিং’-এর মতো সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ে একাধিক সতর্কবার্তা পাওয়া গেছে। এ ধরনের হামলা ‘বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং জনশান্তি ও শৃঙ্খলা ব্যাহত করতে’ ব্যবহার করা হতে পারে।”
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এমন একটি ‘জোরালো আশঙ্কা’ রয়েছে যে কিছু গোষ্ঠী এমন কোনো কার্যক্রম, সমাবেশ বা বিক্ষোভের আয়োজন করতে পারে—যার ফলে লোকসমাগম ঘটবে এবং তা ‘যেকোনো বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে উঠতে পারে।
আদেশে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদ ও বৈরী কার্যকলাপ মোকাবিলায় ‘অবিলম্বে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণের জন্য পাঞ্জাব পুলিশ, সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী বিভাগ, বিশেষ শাখা এবং বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় কোনো সর্বজনীন স্থান, রাস্তা, সড়ক, মহাসড়ক, মোটরওয়ে বা খোলা জায়গায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, মিছিল ও জমায়েতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা বিবাহ অনুষ্ঠান, জানাজা, দাফন-সংক্রান্ত জমায়েত কিংবা মসজিদ, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগেভাগে পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করা না হলে ৬ অক্টোবর থেকে ১০ দিন পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে