
মুড়ির মোয়া তৈরির সহজ রেসিপি
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩৭

নোবেল পুরস্কারের ভোজসভা অনুষ্ঠিত হওয়া স্টকহোম সিটি হলে গ্লোবাল চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ গ্রহণ করেন সহ-প্রতিষ্ঠাতা মো. রিদওয়ান হোসাইন।
প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ ‘threadBridge’ গত ২১ অক্টোবর সুইডেনের স্টকহোম সিটি হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এইচঅ্যান্ডএম ফাউন্ডেশনের গ্লোবাল চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা মো. রিদওয়ান হোসাইন ও মোহাম্মদ মাজ যৌথভাবে এই অর্জনের অংশীদার। দলের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন রিদওয়ান হোসাইন। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে যে সিটি হলে নোবেল পুরস্কারের ভোজসভা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানেই আয়োজিত হয় এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান।
‘ফ্যাশন জগতের নোবেল পুরস্কার’ হিসেবে পরিচিত এই সম্মাননার এবারের ১০ বিজয়ীর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান threadBridge। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও তানজানিয়ার উদ্ভাবকদের পাশাপাশি নির্বাচিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই পুরস্কার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারের পোশাক উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু স্টকহোমে এবার স্বীকৃতি মিলেছে এমন এক বাংলাদেশের, যে দেশ শুধু পোশাক তৈরি করে না, বরং পোশাক উৎপাদনকে আরও উন্নত করার প্রযুক্তিও উদ্ভাবন ও তৈরি করে।
পুরস্কার গ্রহণের অনুভূতি জানিয়ে রিদওয়ান হোসাইন বলেন, “স্টকহোমে এই পুরস্কার গ্রহণ করার সময় আমার মনে পড়ছিল আমাদের কারখানার উৎপাদনকর্মীদের কথা। এই স্বীকৃতি তাদের এবং বাংলাদেশের সেই সব তরুণ প্রকৌশলীর, যারা দেশের সমস্যা দেশের মাটিতেই সমাধান করতে চান।”
কাপড় কাটার আগেই ত্রুটি শনাক্ত করতে সক্ষম এআই-চালিত স্মার্ট গ্লাস উদ্ভাবনের জন্য threadBridge এই পুরস্কার অর্জন করেছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ফ্যাব্রিক পরিদর্শকেরা তাৎক্ষণিকভাবে কাপড়ের ত্রুটি শনাক্ত করতে পারেন। অনেক কারখানায় প্রায় ৯০ শতাংশ কাপড় কাটার আগে যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয় না। ফলে কাটার পর ত্রুটি ধরা পড়লে কাপড়, জ্বালানি ও অর্থের অপচয় হয়।
স্মার্ট গ্লাসের পাশাপাশি threadBridge তৈরি করেছে উচ্চগতির একটি ফ্যাব্রিক পরিদর্শন মডিউল, যা কারখানায় আগে থেকেই ব্যবহৃত পরিদর্শন মেশিনে সংযুক্ত করা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তিটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে।
উভয় প্রযুক্তিই কর্মীদের প্রতিস্থাপনের পরিবর্তে তাদের কাজকে আরও কার্যকর ও নির্ভুল করার লক্ষ্যে তৈরি। এর মূল দর্শন হলো—মেশিনের গতিতে পরিদর্শন, আর গুণগত মান নিশ্চিতকরণে মানুষের নেতৃত্ব।
ভারী শিল্পেও একই কম্পিউটার ভিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। threadBridge-এর SteelGuard সিস্টেম গাজীপুরের একটি কারখানায় ১৫টি উৎপাদন মেশিনে স্টিলের পাইপ পরীক্ষা করছে। পরীক্ষামূলক প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনজনিত অপচয় ও পুনরায় কাজ করার প্রয়োজন কমিয়ে প্রায় ৩৭ টন কার্বন নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পে স্থানীয় জনবল নিয়োগ ও কারখানার কর্মপরিবেশে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়।
রিদওয়ান হোসাইন বলেন, “আমি বাংলাদেশের মানুষ। আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো বস্ত্র ও পোশাকশিল্প। এই শিল্পে লাখ লাখ মানুষ কাজ করেন। কারখানার উৎপাদনক্ষেত্রে কাজ করার সময় আমি কোনো বিমূর্ত ব্যবসায়িক সমস্যা দেখিনি। আমি দেখেছি, এমন একটি প্রক্রিয়ার কারণে আমাদের শিল্প পিছিয়ে পড়ছে, যেটিকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ আগে কেউ যথাযথভাবে নেয়নি।”
২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম জুন মাসে ঘোষণা করা হয়। সে সময় এইচঅ্যান্ডএম ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য কার্ল-ইয়োহান পারসন বলেন, “আমাদের প্রয়োজনীয় সমাধানগুলো ইতোমধ্যেই রয়েছে; যা অনুপস্থিত, তা হলো দ্রুত বাস্তবায়ন ও বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণ।”
বিজয়ী হিসেবে threadBridge পাবে ২ লাখ ইউরো অনুদান। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি এইচঅ্যান্ডএম ফাউন্ডেশনের এক বছরব্যাপী ‘চেঞ্জমেকার প্রোগ্রাম’-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে, যা উদ্ভাবনী সমাধানকে আরও বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।
threadBridge হলো বিল্ড বাংলাদেশ (Build Bangladesh) পরিচালিত ‘নিডল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর একজন স্নাতক প্রতিষ্ঠান। এই উদ্যোগ পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে পরবর্তী প্রজন্মের উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করা উদ্যোক্তাদের সহায়তা করে।
threadBridge-এর এই অর্জন প্রমাণ করে, বাংলাদেশ এখন আর শুধু প্রযুক্তি গ্রহণকারী দেশ নয়; বরং এ দেশে কার্যকর এআই প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বাস্তব কারখানায় পরীক্ষা এবং বিশ্ববাজারে উপস্থাপনও করা হচ্ছে।