
নেতাকর্মীরা ঘুমহীন প্রহরীর মতো পূজামণ্ডপ পাহারা দেবে: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১৮

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির লোগো
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী উপজেলা কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া বা উপযুক্ত প্রতিকার ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
একইসঙ্গে, ১৬ অক্টোবর নির্ধারিত পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন; এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও করেছে এনসিপি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এনসিপির দফতর সেলের সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা একটি বিবৃতি সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়ে এই সব দাবির কথা জানানো হয়েছে।
এনসিপি বলছে, মাত্র ২৪২ পদের বিপরীতে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। অর্থাৎ প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩২০ জন প্রতিযোগিতা করছিলেন। বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িত থাকার পরও নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে না পারা গুরুতর ব্যর্থতা।
আগের রাতেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লেও; প্রার্থীরা যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও প্রস্তুতির পেছনে অর্থ, সময় ও শ্রম ব্যয় করে কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর জানতে পারেন-- পরীক্ষা স্থগিত। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক চাপ বেড়েছে বলে মনে করে এনসিপি।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অভিযোগ সামনে আসার পরও কেন পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো, তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।
এনসিপির মতে, শুধু পরীক্ষা স্থগিত করলেই সংকটের সমাধান হবে না। প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। তদন্তের প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জনসমক্ষে তথ্য দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দলটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগাম দায়ী না করে প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ১৬ অক্টোবরের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও নিতে হবে।
পরীক্ষা দিতে এসে যাতায়াত ও আবাসনসহ অনিবার্য ব্যয় বহন করা প্রার্থীদের ক্ষতিপূরণ বা উপযুক্ত প্রতিকারের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।
বিবৃতিতে দলটি বলেছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় সরকারি চাকরিকে ঘিরে লাখো তরুণের প্রত্যাশা রয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা কিংবা প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাদের সেই প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না।
চাকরিপ্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিন লাখের বেশি চাকরিপ্রার্থীর সময়, অর্থ, শ্রম ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।