
আধিপত্যবাদ থেকে জনগণকে মুক্ত করতে বিএনপির বিকল্প নেই: রাশেদ খান
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৩

ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদির প্রার্থিতা, তার হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিস্ফোরক ও খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক একান্ত সহকারী রাশেদ খান।
তিনি অভিযোগ করেছেন, শহীদ ওসমান হাদি জীবদ্দশায় যেই জামায়াত ও এনসিপির কাছে ছিল ‘বিষ’; অথচ তার মর্মান্তিক প্রয়াণের পর নিজেদের স্বার্থ হাসিলে তাকে আদর্শিক নেতা বানিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসায় নেমেছে দল দুটি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক দীর্ঘ পোস্টে রাশেদ খান বিস্তারিতভাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদির বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। আর জামায়াতের আমিরের পিএস, বুয়েট শিবিরের সভাপতি জুবায়ের ওসমান হাদিকে বলেছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন না করতে এবং সেখানে সাদিক কায়েম জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। সে সময় শহীদ ওসমান হাদি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পাব, তবুও ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করব...!’ এ বিষয়ে শহীদ ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদি ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন তুলে রাশেদ খান লেখেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, জামায়াতের আমিরের পিএস জুবায়ের কি দেশে আছে? শহীদ ওসমান হাদির ভাই তো তাকেও সন্দেহ করে পোস্ট করেছিলেন। এ ছাড়া শহীদ ওসমান হাদির প্রতি যাদের এত দরদ, তারা কেন তার আহ্বানে সাড়া দিলো না? আমার যদি ভুল না হয়, সে (হাদি) তো প্রকাশ্যে আহ্বান করেছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে কোনো দল যাতে তার বিপরীতে প্রার্থী না দেয়! উল্টো তার বিপরীতে একজন রিকশাচালককে প্রার্থী করে এনসিপি ওসমান হাদিকে অপমান করে। তা-ও যদি তাকে প্রার্থী হিসেবে রাখত, সেটা আলাদা কথা ছিল। কিন্তু রিকশাচালক সুজনকে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী না করে ওসমান হাদি হত্যার পর তাকে (রিকশাচালক সুজনকে) সরিয়ে দেয়া প্রমাণ করে যে, শহীদ ওসমান হাদিকে ছোট করতেই এমন নোংরামি করেছিল এনসিপি।’
জামায়াত ও এনসিপির দ্বিমুখী ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘অন্যদিকে জামায়াত তো ওসমান হাদিকে একপ্রকার থ্রেট করে বসে নির্বাচন না করার জন্য বা অন্য আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য! কিন্তু হত্যার পরে শহীদ ওসমান হাদি হয়ে গেছেন জামায়াত-এনসিপির সবচেয়ে বড় আদর্শিক নেতা! কিন্তু মৃত্যুর আগে শহীদ ওসমান হাদি ছিলেন এই দুই দলের কাছে বিষ! কারণ তিনি এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট, জুলাইকে কুক্ষিগত করার মতো ৩টা অপরাধ চিহ্নিত করেছিলেন এবং জামায়াতকে গুপ্ত বলেছিলেন, যারা রিমোট চাপলে যে কোনো সময় নাই হয়ে যাবে।’
পোস্টে রাশেদ খান আরও উল্লেখ করেন, ‘শোনেন, শহীদ ওসমান হাদির প্রতি আমাদের সকলের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু এনসিপির গাঁজাখোর নেতা নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী যখন বলে, জিয়াউর রহমানের চেয়ে হাদির লড়াই বেশি শক্তিশালী, তখন তো আর বলতে বাকি থাকে না, জামায়াত-এনসিপি ওসমান হাদিকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে! বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে শহীদ ওসমান হাদিকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়, সেই নোংরা প্ল্যান থেকেই গাঁজাখোর নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এমন মন্তব্য করেছে।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি আশা করি, বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেই ফাঁদে পা দেবে না। শহীদ ওসমান হাদি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদ বিরোধী রাজনীতিকে আদর্শ মেনেই সংগ্রাম করেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামকে জীবদ্দশায় শহীদ ওসমান হাদি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, সেটা অতুলনীয়। সুতরাং শহীদ ওসমান হাদি জাতীয়তাবাদী আদর্শের অংশ ও লালনকারী। তাকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো প্ল্যান সাকসেস হবে না, ইনশাআল্লাহ।’
কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে হাদিকে কবর দেয়া নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘তবে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেররা যে সময় বলে, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদতের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ চিনেছে যে, নজরুলের মাজারটা কোন জায়গায়! তখন কিন্তু শুধু জাবেরদের এই বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে শহীদ ওসমান হাদির কবর দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে অনেকের মধ্যে একধরনের প্রশ্নের উদ্রেক আসতে পারে। তবে একজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া মানুষের কবর দেয়া নিয়ে কোনো বিতর্ক করা ঠিক না। কারণ শহীদ ওসমান হাদির কবরের সাথে তার কোনো হাত নেই বা হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি এমন কোনো অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করে যাননি; বরং শহীদ ওসমান হাদি জীবদ্দশায় যমুনা ঘেরাও কর্মসূচি থেকে বলেছিলেন, আমার মৃত্যু হলে কবরটা যেন বাবার কবরের পাশে দেয়া হয়।’
জাতীয় কবির সঙ্গে তুলনার বিষয়টি নাকচ করে তিনি যোগ করেন, ‘শোনেন, আমাদের সকলেরই উচিত, কাজী নজরুল ইসলামের সাথে শহীদ ওসমান হাদিকে ন্যূনতম তুলনা করে বক্তব্য না দেয়া। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিপ্লবী চেতনাকে শহীদ ওসমান হাদি দারুণভাবে ধারণ করতেন। শহীদ ওসমান হাদি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একজন যোগ্য শিষ্য বলে মনে করি। সুতরাং গুরু-শিষ্যের কবর পাশাপাশি থাকার মধ্যে কোনো সংকট আছে বলে মনে করি না। বরং আমার মাঝেমধ্যে মনে হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতাসহ বেশকিছু কবিতা যেন শুধু শহীদ ওসমান হাদির আবৃত্তির জন্যই সৃষ্টি হয়েছিল।’
রাশেদ খান তার পোস্টের সমাপ্তি টেনে লেখেন, ‘পরিশেষে ইনকিলাব মঞ্চ, জামায়াত-এনসিপি তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য শহীদ ওসমান হাদিকে যত কম টানাহেঁচড়া করবে, শহীদ ওসমান হাদি তত বেশি সর্বজনীন ও প্রাসঙ্গিক থাকবে। আর প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সাথে শহীদ ওসমান হাদির খুবই গভীর সম্পর্ক ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নুরুল হক নুর আক্রান্ত হওয়ার পরে শহীদ ওসমান হাদি বিচারের দাবিতে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। এবং শহীদ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরেও নুরুল হক নুরও ওসমান হাদির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘তারা দুজনেই আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা। নুরুল হক নুরের পুরো বক্তব্য শুনলে মনে হবে না যে, সে শহীদ ওসমান হাদিকে কোনোভাবে ছোট করেছে। বরং তার রাজনৈতিক বিরোধীপক্ষ উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে ও বিভ্রান্তি ছড়াতে বক্তব্য কাটছাঁট করে খণ্ডিত বক্তব্য প্রচার করেছে। আশা করি, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বিষয়টি পরিষ্কার করবেন। আজকে সকালে শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাইয়ের সাথে টেলিফোনে কথা হচ্ছিলো, তিনিও বললেন– ‘যে সময় কেউ কথা বলত না, সে সময় নুর ভাই কথা বলতেন, একজন মৃত মানুষকে নিয়ে বিরোধীপক্ষ বিতর্ক করার সুযোগ পায়, এমন কোনো বক্তব্য দেয়া উচিত না।’ আমিও শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাইয়ের সাথে এক মত। আমাদের ভাই শহীদ ওসমান হাদিকে আমরা আজীবন হৃদয়ে ধারণ করব, ইনশাআল্লাহ। তাকে যারা বিতর্কিত করতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে, তাদের বিষয়েও আমাদের সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে।’