
ধর্ম যার যার–রাষ্ট্র সবার, নিরাপত্তার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪২

জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলন ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে একসঙ্গে পরিচালনা করলেও আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছে জামায়াত ও এনসিপি।
নানা আলোচনার মধ্যে দুই দফায় দিন-তারিখ পরিবর্তন করে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিরোধী দলগুলো নিজেদের মতো করে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করলেও ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ ও সন্দেহ প্রকাশ করছে।
দলের শীর্ষ নেতাদের দাবি, সময়সীমা ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সুবিধাকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইসি, যা কমিশনকে বিতর্কিত করছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচন এ বছর হচ্ছে না, আগামী বছর হবে–এমন সিদ্ধান্তের পেছনে পরীক্ষার যে অজুহাত দেয়া হচ্ছে, তা অস্বাভাবিক। নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ যখন প্রথম তারিখ ঘোষণা করেছিলেন, তখন কি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়নি? পরে আবার পরীক্ষার অজুহাত তুলে সময় পেছানো হলো কেন? এটি আসলে সরকারের শিখিয়ে দেয়া বুলি। এতেই স্পষ্ট যে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ না করে আজ্ঞাবহ ভূমিকা পালন করছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সংবিধান ইসিকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা থেকে সরে গিয়ে তারা দলতুষ্টির কাজ করছে। সরকার কৌশল ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো নির্বাচন করতে চাইছে। কিন্তু এই কমিশনের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়–জনগণ সেটাই ধরে নিচ্ছে এবং তারা এর উপযুক্ত জবাব দেবে।’
একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের স্ববিরোধী অবস্থান ও বক্তব্য সাধারণ মানুষের মনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। এতে প্রশ্ন উঠে গেছে–ইসি কি আদৌ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারছে?’
পরীক্ষার অজুহাতে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ বা জুন-জুলাইয়ের দিকে হয়। এখন পরীক্ষার কথা বলে নির্বাচন যেভাবে পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে, তাতে আগামী বছর গিয়ে এ ধরনের আশঙ্কা আরও বাস্তব হয়ে দেখা দিতে পারে।’
উভয় দলের নেতারাই জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ আচরণের ওপর।