
পর্দা নামছে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলার, বেচাকেনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, হিলি
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৬

শিল্পীর তুলির আঁচড়ে রূপ পাচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। ছবি: সময় সংবাদ
শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তাই দিনাজপুরের হিলিতে মন্দিরে মন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমা রং করা হচ্ছে, কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজসজ্জার কাজ। তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গাসহ অন্য প্রতিমাগুলোকে নিখুঁত রূপ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। অন্যদিকে, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সীমান্তবর্তী হিলিতে এবার ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরইমধ্যে প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং করা ও সাজসজ্জার কাজ।
পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কারিগরদের ব্যস্ততা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রতিমা সাজানোর কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেবী দুর্গাসহ অন্য প্রতিমাগুলোর কাজ শেষ করে পূজা উদযাপন কমিটির কাছে বুঝিয়ে দিতে চান শিল্পীরা।
প্রতিমাশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় আগের তুলনায় খরচ বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে বাড়েনি পারিশ্রমিক। ফলে কাজ করে প্রত্যাশিত আয় না হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। প্রতিমা তৈরির ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রতিমাশিল্পী সুসন মণ্ডল বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির কাজ অনেক পরিশ্রমের। সময়মতো কাজ শেষ করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে রং ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের আয় বাড়েনি। তারপরও ভক্তদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুন্দর প্রতিমা তৈরির চেষ্টা করছি।’
এদিকে, পূজাকে ঘিরে মন্দিরগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা সাজানোর পাশাপাশি মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা পূজা কমিটির নেতাদের।
পূজা কমিটির সভাপতি মিন্টু বসাক বলেন, ‘পূজাকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। প্রতিমার সাজসজ্জাসহ মণ্ডপের অন্যান্য কাজ প্রায় শেষের দিকে। আশা করছি, সবার সহযোগিতায় সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারব। দর্শনার্থীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে মণ্ডপে আসতে পারেন, সে বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
পূজাকে ঘিরে এরইমধ্যে মণ্ডপগুলোতে বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। প্রতিমা রং করা ও সাজসজ্জার কাজ দেখতে ভিড় করছেন অনেকে। অন্যদিকে, সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশা আলম বলেন, ‘হাকিমপুর উপজেলায় ২২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি পূজামণ্ডপে একটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এতে কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটালে তাকে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন জুয়া ও মাদকের মতো কর্মকাণ্ডের সুযোগ না দেয়া হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’