
ইসলামে দেনমোহর পরিশোধ না করার শাস্তি কী?
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৮

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬১০ খ্রিস্টাব্দে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নবুওয়ত লাভ করেন। নবুওয়ত লাভের পর তিনি মহান আল্লাহকে অস্বীকারকারীদেরকে এক আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেন। দিন দিন তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষেরা এর বিরোধিতা শুরু করেছিলেন। ফলে তিনি গোপনে তিন বছর দাওয়াত দিয়েছিলেন। এরপর প্রকাশ্যে দাওয়াত দেয়া শুরু করেন। এবার কাফেররা মর্মান্তিক নির্যাতন শুরু করল।
কাফেরদের পরামর্শস্থল ‘দারুন নদওয়া’তে বসে নবীজিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রতিটি গোত্র থেকে একজন করে যুবক নির্বাচন করা হবে, তারা সবাই একযোগে নবীজির ওপর হামলা করে তাকে হত্যা করে ফেলবে। ফলে তার রক্তপণ সব গোত্রের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যাবে। আর বনু হাশিম গোত্র সবার সঙ্গে একাকি লড়াই করে কিছুই করতে পারবে না।
মহান আল্লাহ কোরআনে এ সম্পর্কে বলেন, ‘স্মরণ করুন, কাফেররা আপনাকে বন্দি বা হত্যা করার জন্য কিংবা নির্বাসিত করার চক্রান্ত করে। তারা চক্রান্ত করে; আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেন। আর আল্লাহ শ্রেষ্ঠতম কৌশলী।’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৩০)
তাদের চক্রান্ত মহান আল্লাহ নস্যাৎ করে দেন। রাতেই ওহির মাধ্যমে এই চক্রান্তের কথা নবীজিকে জানিয়ে দেন। নবীজিকে হিজরতের নির্দেশ দেন। হিজরতের নির্দেশ পাওয়ামাত্রই নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ঘরে ও নিজের বিছানায় আপন চাচাতো ভাই হজরত আলী (রা.)-কে রেখে প্রিয় সঙ্গী আবু বকর (রা.)-কে নিয়ে মদিনার উদ্দেশে রওনা হন। রওনা হওয়ার মুহূর্তে বাইতুল্লাহর দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে নবীজি বলেন, ‘হে মক্কা! খোদার কসম, তুমি আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় শহর, আমার প্রতিপালকের কাছেও বেশি পছন্দের শহর তুমি। যদি তোমার অধিবাসীরা আমাকে বের করে না দিতো, আমি কখনও বের হতাম না।’ (তিরমিজি: ৩৯২৫)
মহানবী (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের কী কারণ ছিল- তা মহান আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। তারপরেও কিছু কারণ জানা যায়:
এক. ৬২১ ও ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে হজের সুযোগে মক্কায় একদল মদিনাবাসী যেভাবে নবীজি (সা.)-এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করেছেন এবং নবীজি (সা.)-কে রক্ষার দৃঢ় শপথ করেছেন, আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সন্তোষজনক বলে মনে হয়েছে। মদিনাকে দারুল হিজরত বা ইসলামের দাওয়াতের কেন্দ্র হিসাবে নির্বাচনের পেছনে মদিনাবাসীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন ছিল অন্যতম একটি কারণ।
দুই. মদিনার ভৌগোলিক সুবিধা। পর্বত, ঘন খেজুর বন আর ‘হাররা’য় তিন দিক থেকে বেষ্টিত নিরাপদ অঞ্চল। এছাড়া তা ছিল কৃষি অঞ্চল। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে মদিনার অবস্থান ছিল দুর্গের মতো নিরাপদ। আরব উপদ্বীপের কাছাকাছি আর কোনো শহর এর কাছাকাছি ছিল না।
তিন. মদিনার অধিবাসীদের সহমর্মী মানসিকতা। মদিনার প্রধান দুটি গোত্র আওস ও খায়রাজ জাতীয় মর্যাদাবোধ, আত্মসম্মান, অশ্বারোহণ ও শৌর্য-বীর্যে ছিল বিশিষ্ট। কোনও বড় গোত্র বা হুকুমতকে কখনও তারা কর বা জরিমানা দেয়নি।
চার. মদিনার বনি আদি ইবনে নাজ্জার গোত্র ছিল বনি হাশিমের মাতৃকুল। সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) ছিলেন সে বংশের একজন। মদিনায় পৌঁছে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে অবস্থান করেন।