
আর্কটিকের বরফ গলার নতুন রহস্য!
শফিকুজ্জামান রুবেল
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫৪
চারদিকে কংক্রিটের দেয়াল। একের পর এক বহুতল ভবন। যানজট আর মানুষের চাপে সংকুচিত হচ্ছে রাজধানী ঢাকার উন্মুক্ত জায়গা। বাতাসেও বাড়ছে দূষণ। ইট-পাথরের এই শহরের মানুষকে কোনো রকমে অক্সিজেনের জোগান দিয়ে বেঁচে আছে কিছু গাছ।
গাছ আপন মনে অক্সিজেন ছড়াচ্ছে। তার কাছে এসে নিঃশ্বাস নিলে কিছুটা প্রশান্তিও মেলে। কিন্তু কোথাও পাখির দেখা নেই, নেই কিচিরমিচির শব্দ। কেন এমন পরিস্থিতি?
সরকার পাখিদের ফিরিয়ে আনতে এবং সবুজ নগরায়নের মাধ্যমে নগরবাসীকে বিশুদ্ধ বাতাস দিতে চায়। তবে শহরের বর্তমান বাস্তবতায় সেটি কতটা সম্ভব, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) বলছে, মাত্র এক দশকে ঢাকা শহরে গাছপালায় আচ্ছাদিত এলাকা কমেছে ৩১ শতাংশ, জলাশয় কমেছে ৪৭ শতাংশ। আর নির্মাণ এলাকা বেড়েছে ৫০ শতাংশ। কয়েক দশক আগেও ঢাকার ১৭ শতাংশ এলাকায় বনায়ন ছিল। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২ শতাংশে।
২০২৬ সালের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সূচকে ১৭৩টি শহরের মধ্যে বাস অযোগ্য তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। ঢাকার পর রয়েছে শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর লিবিয়ার ট্রিপোলি ও সিরিয়ার দামেস্ক। ঢাকার এমন পরিস্থিতির জন্য দখল, অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও ভঙ্গুর নগর ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন পরিবেশবিদরা।
পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন,
একটি শহরের যে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা বা ক্যারিং ক্যাপাসিটি থাকা উচিত, ঢাকা অনেক আগেই তা অতিক্রম করেছে। প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। এরপর সেই দূষণ কমাতে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। অথচ দূষণ করছে গুটিকয়েক মানুষ। দখল ও দূষণের মাধ্যমে তারা শিল্পসহ নানা ধরনের সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় নগরীকে সবুজ করতে গ্রিন সিটির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ইতিবাচক। তবে ভূমির ধরন অনুযায়ী সঠিক গাছ নির্বাচন এবং পরিকল্পনার বিজ্ঞানভিত্তিক বাস্তবায়ন জরুরি।
স্থপতি ও নগরবিদ মো. ইকবাল হাবিব বলেন,
প্রতিবছর গাছ লাগানোর মহোৎসবের নামে যে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, সেটি যে এক ধরনের প্রহসন ও প্রতারণা, তা সবারই জানা। সবুজ মানে শুধু গাছ লাগানো নয়; গাছের যত্ন নিয়ে সেটিকে বড় করে তোলা। যেখানে ছায়া ও অক্সিজেনের জন্য গাছ প্রয়োজন, সেখানে সে অনুযায়ী গাছ লাগাতে হবে, ফলের গাছ নয়। গাছ বড় হওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি না করে শুধু কোনোভাবে মাটিতে পুঁতে দিলেই হবে না। পরে সেটি অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে একসময় শুকিয়ে যায় বা মানুষের ওপর পড়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। এ ধরনের ব্যবস্থাপনায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল হতে পারে না।
সবুজায়ন নিশ্চিত করতে পুরনো গাছ রক্ষার পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ এবং জলাশয়, খাল ও নদীর পাড় উদ্ধারে কঠোর ভূমিকা নেয়ার কথা বলছে রাজউক। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মো. শাহীনুর আলম বলেন, ‘রাজউক আর পিছু হটবে না। প্রধানমন্ত্রী গ্রিন সিটি গড়ে তোলা এবং জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে রাজউক এবার কোনোভাবেই পিছু হটবে না।’
সরকারের গ্রিন সিটির স্বপ্ন বাস্তবায়নে নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব সংস্থার সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সবুজায়নের জন্য গাছ লাগানো অত্যন্ত জরুরি। তবে পুরনো গাছ কাটা বন্ধ করা না গেলে, জলাশয় ও ফাঁকা জায়গা রক্ষা করা না গেলে এবং অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গ্রিন সিটির স্বপ্ন হয়তো কাগজেই সবুজ থাকবে, বাস্তবে নয়।