
দখল-দূষণে বিপর্যস্ত ঢাকা, গ্রিন সিটির উদ্যোগ কি ফেরাবে স্বস্তি?
এ জে সাগর
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০

আর্কটিক অঞ্চলের স্যাটেলাইট ছবি
১৯৭৯ সালের তুলনায় এখন আর্কটিকের সমুদ্রবরফ গলার মৌসুম প্রায় ৪০ দিন দীর্ঘ। কিন্তু সবশেষ ১৬ বছরে এই মৌসুমের গড় দৈর্ঘ্য তেমন বাড়েনি। তাহলে কি আর্কটিকের বরফ গলার পরিবর্তন থেমে গেছে? না, তাও হয়নি।
নাসার নতুন এক গবেষণা বলছে, আর্কটিকের বরফ এখন আগের তুলনায় অনেক পাতলা ও তরুণ। আর এ কারণেই বরফ গলার মৌসুমের ওপর এখন বার্ষিক আবহাওয়ার প্রভাব আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।
নাসার সাম্প্রতিক গবেষণার দুটি মানচিত্র থেকে দেখা যায় ২০০০-২০০৯ এবং ২০১০-২০২৩ সময়কালে আর্কটিকে বরফ গলার মৌসুমে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
প্রথম মানচিত্রের গাঢ় লাল এলাকাগুলো দেখাচ্ছে, ২০০০-এর দশকে আর্কটিকের কিছু এলাকায় বরফ গলার মৌসুম বছরে প্রায় ৫ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে।
দ্বিতীয় মানচিত্রে হালকা নীল এবং লাল রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, যা বরফ গলার সময়ের দৈর্ঘ্যে কম পরিবর্তন নির্দেশ করে।
কিন্তু কেন এমন হলো? কখন গলতে শুরু করে আর্কটিকের বরফ? কখন আবার জমাট বাঁধে? আর পাতলা হয়ে যাওয়া বরফের ওপর মেঘ, ঝড় ও বাতাসের প্রভাবই বা কতটা?
সমুদ্রবরফ গলার মৌসুম ৪০ দিন কেন বাড়ল?
প্রতি বছর বসন্তে আর্কটিকের সমুদ্রবরফ গলতে শুরু করে। আবার শরতে সেই বরফ জমাট বাঁধে। ১৯৭৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ১৯৭৯ সালের তুলনায় আর্কটিকের বরফ গলার মৌসুম এখন প্রায় ৪০ দিন বেশি দীর্ঘ।
তবে এর প্রধান কারণ বসন্তে বরফ অনেক আগে গলে যাওয়া নয়। বরং মূল পরিবর্তন ঘটেছে শরতে। অর্থাৎ, আর্কটিকের সমুদ্রবরফ আবার জমাট বাঁধতে দেরি করছে।
আর এই পরিবর্তনের বেশিরভাগই ঘটেছে ২০১০ সালের আগেই। এরপর গলার মৌসুমের গড় দৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে স্থির রয়েছে। যদিও বছরভেদে এতে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়।
বরফ পাতলা হলে কী হয়?
একসময় আর্কটিক মহাসাগরে বহু বছরের পুরানো, তুলনামূলক পুরু বরফের পরিমাণ বেশি ছিল। কিন্তু এখন সেই বরফের বড় অংশই তরুণ ও পাতলা। আর পাতলা বরফ আবহাওয়ার পরিবর্তনে বেশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়।
মেঘ, ঝড় কিংবা বাতাসের সামান্য পরিবর্তনও তাই এই বরফের গলা ও জমার ওপর বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গলার মৌসুমের গড় দৈর্ঘ্য ২০১০ সালের পর খুব বেশি পরিবর্তিত না হলেও, এক বছর থেকে আরেক বছরে এর মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
২০০০-এর দশকে কী ঘটেছিল?
বরফ সাদা হওয়ায় সূর্যের আলো অনেকটাই প্রতিফলিত করে। কিন্তু বরফ সরে গেলে যে গাঢ় সমুদ্রের পানি উন্মুক্ত হয়, সেটি সূর্যের আলো বেশি শোষণ করে। ফলে সমুদ্র আরও বেশি তাপ ধরে রাখে। শরতে সেই তাপ কমতে সময় লাগে। তাই সমুদ্রের পানি ঠান্ডা হয়ে আবার বরফে পরিণত হতেও দেরি হয়। আর এর ফল- দীর্ঘ হয় বরফ গলার মৌসুম।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০০-এর দশকে আর্কটিকের অনেক এলাকায় এই মৌসুম দ্রুত দীর্ঘ হয়েছিল, কিছু এলাকায় বছরে ৫ দিন পর্যন্ত।
২০১০ সালের পর কেন বদলে গেল চিত্র?
কিন্তু ২০১০ সালের পর এই প্রবণতায় আসে পরিবর্তন। গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মেঘের ধরনে পরিবর্তন আর্কটিক মহাসাগরের কিছু অংশে পৌঁছানো সূর্যালোকের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
ফলে আগের মতো একই হারে বরফ গলার মৌসুম দীর্ঘ হয়নি। বরং এখন এক বছর থেকে আরেক বছরে মৌসুমের দৈর্ঘ্য ওঠানামা করছে। কখনো বেশি, কখনো কম।
কিন্তু দীর্ঘ সময়ের গড় হিসেবে এটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। অর্থাৎ, ২০১০ সালের পর বরফ গলার মৌসুম কতটা দীর্ঘ হবে, সেটি শুধু দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়ণের ওপর নয়, প্রতিবছরের আবহাওয়ার ওপরও বেশি নির্ভর করছে।
কিন্তু আর্কটিকের উষ্ণায়ণ কি থেমে গেছে?
গবেষণাটি কখনোই বলছে না যে আর্কটিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেমে গেছে। আর্কটিক এখনো বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় চার গুণ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। আর সমুদ্রবরফও কয়েক দশক আগের তুলনায় অনেক পাতলা।
তাই ২০১০ সালের পর বরফ গলার মৌসুমের গড় দৈর্ঘ্য স্থির আছে মানেই আর্কটিকের বরফের পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে গেছে- এমনটা নয়। বরং গবেষণাটি বলছে, পাতলা বরফের কারণে এখন বায়ুমণ্ডল ও বার্ষিক আবহাওয়ার প্রভাব আরও বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে।
এই স্থিতিশীলতা কি স্থায়ী?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। গবেষকরা বলছেন, বর্তমান স্থিতিশীলতা সাময়িকও হতে পারে। গ্রিনল্যান্ডের উত্তরে এবং কানাডিয়ান আর্কটিক দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে এখনো সারা বছর টিকে থাকা পুরু বরফ রয়েছে। ভবিষ্যতে এই পুরু বরফও যদি আরও পাতলা হয়ে যায়, তাহলে আবারও দ্রুত সমুদ্রবরফ কমতে শুরু করতে পারে।
আর তখন বরফ গলার মৌসুম আরও দীর্ঘ হতে পারে। তাই ২০১০ সালের পরের স্থিতিশীলতাকে চূড়ান্ত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না গবেষকরা।