
লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে গেলেন নয়ার
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৪৫

গোল-অ্যাসিস্টে স্মরণীয় এক রাত কাটালেন কোমোর আর্জেন্টাইন তারকা নিকো পাজ। ছবি: এএফপি
ইতালিয়ান ফুটবলে বিপ্লব ঘটিয়েছে কোমো। সেস ফাব্রেগাসের তত্ত্বাবধানে ইউরোপের মঞ্চেও দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবলে নিজেদের ছাপ রাখতে শুরু করেছে তারুণ্যনির্ভর দলটি। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নিয়েই মাঠে একের পর এক বিস্ময়ের জন্ম দিচ্ছে কোমো। এবার প্রতিপক্ষের মাঠে গোল উৎসব করে রীতিমত রেকর্ডবুকে জায়গা করে নিলো সিরি আ'র ক্লাবটি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) স্ট্যাড বোলার্ট-ডেলিলিসে প্রতিপক্ষ লসঁকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে কোমো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের ম্যাচে লঁসকে ৯-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সেস ফাব্রেগাসের শিষ্যরা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নামে শুরু হওয়ার পর প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়েছে কোমো। পাশাপাশি পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানেও উঠে এসেছে তারা।
ম্যাচ শেষে কোচ ফাব্রেগাস বলেন, 'কোমো, আমাদের সব সমর্থক এবং ক্যারিয়ার শুরু করা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটি দারুণ একটি রাত। তবে আমাদের মাটিতে পা রাখতে হবে, বিনয়ী থাকতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে। এই শিক্ষা আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে।'
কোমোর গ্রিক ফরোয়ার্ড তাসোস দুভিকাস হ্যাটট্রিক করে বিশেষ কীর্তি গড়েন। চ্যাম্পিয়নস লিগে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় গ্রিক আন্তর্জাতিক ফুটবলার হলেন তিনি। অন্যদিকে আর্জেন্টাইন তারকা নিকো পাজ আবারও ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছেন। দুটি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি দুর্দান্ত একটি গোলও করেন। ৪০ মিনিটে তার গোলেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় কোমো।
লঁসের বিপক্ষে কোমোর হয়ে বাকি গোলগুলো করেন লুকাস দা কুনিয়া, মার্ক-অলিভার কেম্পফ, মাত্তিয়া লিবেরালি, মার্টিন বাতুরিনা ও মাত্তেও পাপাচ্চিওলি। উল্লেখ্য, লিগ ওয়ানে বর্তমানে নবম স্থানে রয়েছে লঁস।
দুভিকাসের হ্যাটট্রিকটি ছিল ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় কোমোর কোনো খেলোয়াড়ের প্রথম হ্যাটট্রিক। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ ইতালির বিলাসবহুল পর্যটন শহরের এই দলটি এবারই প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ কিংবা কনফারেন্স লিগে খেলছে।
এক ম্যাচে কোমোর করা নয় গোল ঘরের মাঠ কিংবা প্রতিপক্ষের মাঠ উভয় ক্ষেত্রেই বায়ার্ন মিউনিখের গড়া সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে। চার ম্যাচে কোমোর মোট গোল এখন ১৯। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের চেয়ে মাত্র এক গোল কম!
ফাব্রেগাস আরও বলেন, 'আমাদের এখন থেকেই এই শিক্ষা নিতে হবে, যাতে আমরা নিজেদের সাফল্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে না পড়ি কিংবা কাজ শেষ হয়ে গেছে বলে মনে না করি। আমাদের বলতে শিখতে হবে, ঠিক আছে, আজকের দিনটি ভালো ছিল। এবার সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে।'
আট গোলের ব্যবধানে জয়ও চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে রেকর্ড ব্যবধানের জয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ২০০৭ সালে বেসিকতাসের বিপক্ষে লিভারপুলের ৮-০ গোলের জয় এবং ২০১৫ সালে মালমোর বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ৮-০ গোলের জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে কোমো।
এদিকে সিরি আতে-ও ভালো অবস্থানে রয়েছে কোমো। ১০ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে আছে তারা। শীর্ষে থাকা লাৎসিওর চেয়ে পাঁচ পয়েন্টে পিছিয়ে। আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হবে ফাব্রেগাসের দল।