
অবসরে গেলেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তারকা
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৪

রোনালদোর বিস্ফোরক অভিযোগের সংক্ষিপ্ত ও কৌশলী জবাব দিয়েছেন জেসুস। ছবি: সম্পাদিত
পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ জর্জে জেসুস জাতীয় দলের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চাঞ্চল্যকর প্রকাশ্য বিবৃতির পর অবশেষে মুখ খুলেছেন। আল-নাসরের এই তারকা জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি কোচের কথার সত্যতা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন।
রোনালদোর তোলা বিস্ফোরক অভিযোগের জবাবে জেসুস সংক্ষিপ্ত ও পেশাদার ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বুধবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অভিজ্ঞ এই কোচ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। চলমান আন্তর্জাতিক সূচির মাঝপথে রোনালদো নজিরবিহীনভাবে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর দুজনের মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদোর প্রকাশিত বিস্তারিত বিবৃতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জেসুস নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানান।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম আ বোলা'র উদ্ধৃতি অনুযায়ী জেসুস বলেন, 'আমি বিবৃতিটি পড়েছি। আর এখন প্রতিদিনের মতোই দল ও জাতীয় দল নিয়ে কাজ করতে এবং ভাবতে ফেডারেশনে যাচ্ছি।'
ঘটনার সূত্রপাত হয় রোনালদো পর্তুগাল ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের দীর্ঘ ব্যাখ্যা প্রকাশ করার পর। সেই বার্তায় অধিনায়ক স্বীকার করেন যে তার চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি গুরুতর বিষয় এবং দলের নেতা হিসেবে তার অবস্থানের কারণে তাকে উল্লেখযোগ্য শাস্তির মুখোমুখি হওয়া উচিত। তবে একই সঙ্গে তিনি জেসুসের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে চলমান আন্তর্জাতিক বিরতিতে কোচ দুইবার তাকে দেয়া কথা রাখেননি।
রোনালদোর প্রধান অভিযোগের সূত্র নরওয়ের বিপক্ষে একটি ম্যাচকে ঘিরে। তার দাবি, তাকে প্রায় ৩০ মিনিট খেলানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। সেই অনুযায়ী তিনি ওয়ার্ম-আপও করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি এবং বেঞ্চেই থাকতে হয়।
এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন নিয়েও রোনালদো অভিযোগ করেন। তার দাবি, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কীভাবে কথা বলবেন, তা নির্ধারণের জন্য একটি নির্দিষ্ট নথি তৈরি করা হয়েছিল এবং জেসুস সেটি অনুমোদনও করেছিলেন। কিন্তু পরে কোচ সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেননি।
দুজনের মধ্যে এই টানাপোড়েন কিছুদিন ধরেই চলছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে রোনালদোর ঘনিষ্ঠ মহল এবং ক্লাবের প্রতিনিধিরাও যুক্ত ছিলেন।
রোনালদো জানান, সংবাদ সম্মেলনের নির্দেশনা নিয়ে একটি বৈঠকে আল-নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কুতিনহো এবং রোনালদোর ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের কৌশলগত উপদেষ্টা তিয়াগো ক্রাভেইরোও উপস্থিত ছিলেন।
এই ঘটনাগুলো থেকে জেসুস ও তার সবচেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড়ের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতির বিষয়টি সামনে এসেছে। রোনালদো তার বিবৃতিতে ক্ষমা চাইলেও কোচের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কারণে পর্তুগালের সমর্থক ও গণমাধ্যমের নজর এখন জেসুসের দিকে।
জাতীয় দল যখন ফেডারেশনের সদর দপ্তরে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে, তখন পুরো পরিস্থিতিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোনালদো নিজেই বলেছেন, জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তার সম্ভাব্য শাস্তির ক্ষেত্রে আরও গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় তিনি সর্বোচ্চ ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে পারেন।
এখন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তাদের সবচেয়ে বড় তারকার বিষয়টি কীভাবে সামলানো হবে এবং একই সঙ্গে প্রকাশ্যে সমালোচিত কোচ জর্জ জেসুসের অবস্থানই বা কী হবে।