
শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভসূচনা পাকিস্তানের
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২০:২৮

মদ্যপানের আসক্তির সঙ্গে লড়ছেন যুজবেন্দ্র চাহাল। ছবি: বিসিসিআই
সম্প্রতি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়া যুজবেন্দ্র চাহাল জানিয়েছেন, তিনি মদ্যপানের আসক্তির সঙ্গে লড়াই করেছেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছিল যে এই ভারতীয় ক্রিকেটারকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হতে হয়। আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম সফল বোলার চাহাল ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে মদ্যপানের আসক্তি ও বিবাহবিচ্ছেদ।
ভারতের সাবেক ওপেনার আকাশ চোপড়ার সঙ্গে একটি পডকাস্টে চাহাল বলেন, ‘গত বছর কাউন্টি ক্রিকেট খেলার পর... (মদ্যপানের আসক্তি) সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাই আমি একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হই এবং সেখানে ২৬ দিন ছিলাম। এখন আমি জানি, কীভাবে এটি সামলাতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত জীবনে বিশাল পরিবর্তন এনেছে। আমার পরিপক্বতা বেড়েছে। এখন আমার আবেগ অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। গত আইপিএলে আমার শরীরকে আবার ৩০ বছর বয়সের মতো মনে হচ্ছিল। জিমে ব্যায়াম, ফিল্ডিংয়ের অনুশীলন এবং নিয়মমাফিক প্রশিক্ষণ, সবই ঠিকভাবে করতে পারছিলাম।’
জীবনের কঠিন সময়ে পরিবার ও বন্ধুরা তাকে কীভাবে সহায়তা করেছেন, সে কথাও জানিয়েছেন চাহাল। ৩৬ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার বলেন, ‘আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু ও পরিবার আমার পাশে ছিল।’
চাহাল জানান, ২০১১ সালে আইপিএলে খেলার সময় তার মদ্যপানের সমস্যা শুরু হয়। বিবাহবিচ্ছেদের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। তবে আসক্তি কাটিয়ে ওঠার পর বর্তমানে তিনি অনেক বেশি সুখী অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান।
চাহাল বলেন, ‘শুরুর দিকে আমি তরুণ ছিলাম। পার্টি হতো। ২০১১ সালে আমি প্রথম আইপিএল খেলি। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্স একবার আমাকে বলেছিলেন, ‘জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ কথাটা শুনতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিবাহবিচ্ছেদের পর সবকিছু মাত্রা ছাড়িয়ে যায় এবং তখন আমার মানসিক অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। আমি বুঝতে পারি, এভাবে চলতে থাকলে যে জিনিসটিকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, সেই ক্রিকেটকেই ধ্বংস করে ফেলব। তাই আমি সেখানেই থেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। এখন আমি অনেক বেশি সুখী এবং ভালো অবস্থায় আছি।’
ব্যক্তিগত জীবনের সেই অস্থির সময়ের কথা বলতে গিয়ে চাহাল বলেন, একজন পরিচিত মুখ হওয়ার কারণে তার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য করার সুযোগ যেন সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ’আপনি যখন একজন জনপরিচিত ব্যক্তি, তখন আপনার জীবনে যা কিছু ঘটে, তা নিয়েই মানুষ মন্তব্য করার সুযোগ পেয়ে যায়। বিষয়টি আমাকে কষ্ট দিয়েছিল এবং অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।’
চাহাল আরও বলেন, ’আমি (বিসিসিআইয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ) অনিরুদ্ধ স্যারের (চৌধুরী) সঙ্গে কথা বলেছিলাম এবং কিছুদিন বিরতি চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে আমি ভাবতে শুরু করি, ‘আর কত দিন এই বোঝা বয়ে বেড়াব?’ এরপর আমার জীবনে উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাক দেখা দিতে শুরু করে।’
প্যানিক অ্যাটাকের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ’উদ্বেগের সময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। আমার ক্ষেত্রে প্যানিক অ্যাটাকের সময় মুখটা যেন সংকুচিত হয়ে যেত। আমি কথাও বলতে পারতাম না; ঠোঁট শক্ত হয়ে একদিকে টেনে যেত। ফলে মানুষ বুঝতে পারত, আমার সঙ্গে কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে।’