
পঞ্চমবারের মতো আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটার হলেন গিল
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১২

হ্যাজেলউডের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ছবি: এএফপি
বাংলাদেশের কাছে ডারউইন টেস্টে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের পতন দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। কিন্তু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) বর্তমান চক্রের শীর্ষে থাকা অজিরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল আরও একবার। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে দাপুটে জয়ে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। দারুণ বোলিংয়ে চতুর্থ ইনিংসে প্রোটিয়াদের ধসিয়ে দিয়েছেন জশ হ্যাজেলউড।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ডারবানের কিংসমিডে সিরিজের প্রথম টেস্টে ডব্লিউটিসির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১৪ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
৪২১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা গুটিয়ে গেছে ২০৬ রানে। ৪৯ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন জশ হ্যাজেলউড। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এইডেন মার্করাম আর ডেভিড বেডিংহ্যাম ছাড়া কেউই অজি বোলারদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি।
এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩১৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ১৯০ রান করে অজিদের ম্যাচে ফেরানো ম্যাট রেনশ এই ইনিংসেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন। এছাড়া নিক ম্যাডিসন ৪৮, বিউ ওয়েবস্টার অপরাজিত ৩৯ ও মার্নাস লাবুশেন ৩৭ রান করেন। ৮ নম্বরে নেমে মাত্র ১২ বলে ৩২ রানের ক্যামিও খেলে ইনিংস ঘোষণা করেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
৪২১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এবারও শুরুতেই রায়ান রিকেলটনকে (২) হারায় প্রোটিয়ারা। প্রথম ইনিংসেও রানের খাতা খুলতে পারেননি রিকেলটন। দুই ইনিংসেই তাকে আউট করেন হ্যাজেলউড।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মার্করাম ও বেডিংহ্যাম ৬৬ রান যোগ করেন। বেডিংহ্যামকে ফিরিয়ে এই জুটিও ভাঙেন হ্যাজেলউড। ৬৮ বলে ৮ চারে ৪৬ রান করেন বেডিংহ্যাম। জুটি গড়তে ব্যর্থ হন অধিনায়ক বাভুমা। মাত্র ১ রান করে রেনশর বলে আউট হন প্রোটিয়া অধিনায়ক।
এর ২ ওভার পর ত্রিস্তান স্ট্যাবসকে ফিরিয়ে দেন কামিন্স। ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
একদিকে মার্করাম ছিলেন দেয়াল হয়ে। তার সঙ্গে যোগ দেন উইয়ান মুল্ডার। অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথে এই জুটিও বেশি ভুগিয়েছে।
মার্করাম-মুল্ডার জুটিতে যোগ হয় ৬৯ রান। এই জুটিও ভাঙেন হ্যাজেলউড। ১১০ বলে ২৯ রান করে আউট হন মুল্ডার। পরের ওভারে কাইল ভেরাইন্নেকে স্মিথের ক্যাচ বানান রেনশ।
মার্কো ইয়ানসেন চেষ্টা করেছিলেন মার্করামকে সঙ্গ দিতে। এই জুটিতে যোগ হয় ৪৫ রান। ৩৫ রান করা ইয়ানসেনকেও বোল্ড করেন হ্যাজেলউড।
এরপর আর কোনো প্রতিরোধ করতে পারেনি প্রোটিয়ারা। দলীয় স্কোর ২০১ রানে রেখেই ইয়ানসেনের পর সিমন হার্মার ও মার্করামও বিদায় নেন। হার্মারকে (০) আউট করেন হ্যাজেলউড, আর গলার কাঁটা হয়ে থাকা মার্করাম হন মিচেল স্টার্কের শিকার। আউট হওয়ার আগে ২৩৭ বলে ১০ চারে ৭৫ রান করেন তিনি। আনরিখ নরকিয়াকে (৪) নিজের ষষ্ঠ ও শেষ শিকার বানান হ্যাজেলউড।
ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্সের পর বল হাতেও ২ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন রেনশ।