
বিপিএলে যুক্ত হতে আগ্রহী লাহোর কালান্দার্সের মালিক
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৮

জুভেন্টাসের হারে হতাশ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড নিকো গঞ্জালেস। ছবি: এএফপি
ঘরের মাঠেই বড় হারের ধাক্কা খেল ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাস। রোববার (১৮ অক্টোবর) তুরিনে ওল্ড লেডিদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লাৎসিও। এই জয়ে সিরি আ’র শীর্ষে থাকা ইন্টার মিলানের সমান পয়েন্ট অর্জন বড়সড় বার্তা দিল জেন্নারো গাত্তুসোর শিষ্যরা।
গোল ব্যবধানে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের পেছনে থাকলেও সাত ম্যাচ শেষে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে লাৎসিও গড়েছে নতুন ক্লাব-রেকর্ড। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচে সোভেন-গোরান এরিকসনের দলের সংগ্রহ ছিল ১৭ পয়েন্ট। সেই দলটি মৌসুমের প্রথম নয় ম্যাচে অপরাজিত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত জুভেন্টাসের চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ও সর্বশেষ সিরি আ শিরোপা জিতেছিল।
লাৎসিও কোচ জেন্নারো গাত্তুসো বলেন, 'এই লিগে আমরাই হয়তো চমক হয়ে উঠতে পারি। তবে আমাদের খেলার ধরন বদলানো চলবে না। প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।'
দুই ডেনিশ ফুটবলারের গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় লাৎসিও। ৩৭তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ছাড়িয়ে লাফিয়ে উঠে হেডে বল জালে পাঠান ১.৯৩ মিটার উচ্চতার সেন্টারব্যাক অলিভার প্রভস্টগার্ড।
৬৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উইঙ্গার গুস্তাভ ইসাকসেন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার পজিশনে ফেরার সময় ভেতরে ঢুকে নিচু শটে দূরের পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান তিনি।
ম্যাচ শেষের তিন মিনিট আগে নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে বাধাহীনভাবে জুভেন্টাসের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন বদলি খেলোয়াড় ফিসায়ো দেলে-বাশিরু। এরপর ঠান্ডা মাথায় শট নিয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি।
নিজেদের সমর্থকদের দুয়ো শুনে মাঠ ছাড়তে হয় জুভেন্টাসকে। লিগে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র একটি। আট পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে অষ্টম স্থানে রয়েছে তারা।
আতালান্তাকে হারিয়ে চারে এসি মিলান:
এদিকে আতালান্তাকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে এসি মিলান। শীর্ষস্থান থেকে তাদের দূরত্ব চার পয়েন্ট।
আতালান্তার তরুণ স্লোভেনীয় ফুটবলার রেলিয়া ওব্রিচের সিরি আ অভিষেকটা দুঃস্বপ্নের মতো হয়েছে। ১৯ মিনিটে চোট পাওয়া সেয়াদ কোলাশিনাচের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ২০ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। কিন্তু পাঁচ মিনিট পরই সিরি আতে নিজের প্রথম বল স্পর্শ করার সময় হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে বসেন তিনি। ইউনুস মুসাহর শটের গতিপথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাত সরিয়ে আনতে গিয়েই ঘটে এই ঘটনা।
পেনাল্টি থেকে গোল করে মিলানকে এগিয়ে দেন ক্লাবের রেকর্ড ট্রান্সফার ফি দিয়ে দলে আসা গনসালো রামোস। মার্কো কার্নেসেক্কির বাঁ পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
এরপর প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে মিলান। ফ্রান্সের মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিওর শট আতালান্তার ওব্রিচের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে ঢোকে।
৬৫ মিনিটে ডেনিশ সেন্টারব্যাক থমাস ক্রিস্টেনসেনও একই ধরনের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি উপহার দেন মিলানকে। এবার রামোস বিপরীত দিকে শট নিলেও তা ঠেকিয়ে দেন কার্নেসেক্কি।
তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার গোল পায় মিলান। কর্নার থেকে রাবিওর হেডে বল এগিয়ে গেলে খুব কাছ থেকে হেডে জালে পাঠান মারিও গিলা।
দ্বিতীয়ার্ধে সফরকারীদের হয়ে দুটি গোল শোধ করেন জিয়ানলুকা গায়েতানো ও নিকোলা ক্রস্তোভিচ। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে চতুর্থ হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে আতালান্তা।
রাবিও বলেন, 'সাধারণত আমরা ম্যাচের শুরুতে ভুগি এবং দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলি। আজ হয়েছে তার উল্টো। আমাদের সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হবে। তবে মৌসুমের জন্য এই তিন পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'
ফিওরেন্তিনাকে হারিয়ে পাঁচে কোমো:
সংকটে থাকা ফিওরেন্তিনাকে তাদেরই মাঠে ৩-১ গোলে হারিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে কোমো।
প্রথমার্ধে মাত্তিয়া লিবারালি ও নিকো পাজের গোলে এগিয়ে যায় কোমো। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান কমান মারিন পংগ্রাচিচ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করেন আনাস্তাসিওস দুভিকাস। এই জয়ে কোমো চার ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ছিল তাদের সর্বশেষ জয়।
অন্যদিকে, চার পয়েন্ট নিয়ে অবনমন অঞ্চলে আটকে রইল ফিওরেন্তিনা।
কোমো কোচ সেস্ক ফাব্রেগাস বলেন, 'আমরা সব দিক থেকেই পরিপূর্ণ একটি ম্যাচ খেলেছি। আমরা যেভাবে খেলি, তাতে ঝুঁকি থাকবেই। নিখুঁত কৌশল বলে কিছু নেই।'