প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৫

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্রিটিশ রাজপরিবার সারা বিশ্বের মানুষের কাছে একটি আকর্ষণীয় পরিবার। এই পরিবারের প্রতিটি সদস্য সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ অপরিসীম। রানী এলিজাবেথ দ্বিতীয় থেকে শুরু করে প্রিন্স উইলিয়াম, প্রিন্স হ্যারি, ওয়েলসের প্রিন্সেস ক্যাথরিন ও মেগান মার্কেল-ঐতিহ্যে ভরা জীবনযাপন সবসময় বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সদস্য না হলেও রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্তদের ব্যাপারেও মানুষের আগ্রহ কম না। তবে রাজপরিবারের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে এমন একজন আছেন যিনি এখনও গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারেননি। তিনি হলেন প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির সৎ বোন লরা লোপেস।

লরার সম্পর্কে জানতে হলে প্রিন্স চার্লস ও প্রিন্সেস ডায়ানার জটিল দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরায় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তাদের বিয়ে ছিল রাজকীয় রূপকথার মতো। তবে প্রাসাদের প্রাচীরের আড়ালে বাস্তবতা ছিল অনেক বেশি জটিল। বিয়ে থেকে ডায়ানার প্রয়াণ-পুরো সময়জুড়ে চালর্স-ডায়ানা দম্পতি বিশ্বে আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল।

চার্লস-ডায়ানার আড়ম্বরপূর্ণ বিয়ে অনুষ্ঠানের দিকে নজর ছিল বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের। এটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক বিয়েতে পরিণত হয়। সবাই ধারণা করেন- এই দম্পতি চিরসুখী হবে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় স্পষ্ট হয়ে উঠে চার্লসের হৃদয় সম্পূর্ণভাবে ডায়ানার প্রতি নিবেদিত ছিল না। তার ভালোবাসা অন্য কারো প্রতি কেন্দ্রীভূত ছিল। সেই গোপন সম্পর্কই পরবর্তীতে প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির অজানা সৎ বোনের গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। প্রিন্সেস ডায়ানা রাজপরিবারে প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই তিনি উষ্ণতা, সহানুভূতি এবং আধুনিকতার এক সতেজ অনুভূতি নিয়ে এসেছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। তার দয়া এবং অন্যের প্রতি আন্তরিক উদ্বেগ দ্রুতই তাকে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা এনে দেয় এবং ব্রিটেনের সীমানা ছাড়িয়েও প্রশংসিত এক আন্তর্জাতিক আইকনে পরিণত করে। কিন্তু ৯০-এর দশকের শুরুর দিকে, প্রিন্স চার্লস এবং প্রিন্সেস ডায়ানার দাম্পত্য জীবনের ফাটলগুলো উপেক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

কয়েকমাস ধরে গণমাধ্যমের তীব্র মনোযোগ এবং অন্তহীন জল্পনা-কল্পনার পর, ১৯৯৬ সালে এই দম্পতি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ করেন, যা ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত রাজকীয় বিবাহের এক নাটকীয় সমাপ্তি ঘটায়। এর পরপরই যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, তা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে, রাজপরিবারকে চিরতরে বদলে দেয় এবং চার্লসের ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের গোপন রহস্যগুলোকে জনসমক্ষে নিয়ে আসে।

প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু এমন এক অভূতপূর্ব শোকের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল, যা আধুনিক বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি। তার বাসভবন ও রাজকীয় স্থাপনাগুলোর বাইরে ফুলের তোড়া, হাতে লেখা চিঠি, মোমবাতি এবং আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্যের পাহাড় দিন দিন বাড়তে থাকে, যা তার প্রতি মানুষের অপরিসীম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধারই প্রতিফলন ছিল। জনসাধারণ যখন ডায়ানার জন্য শোক পালন করছিল, তখন প্রিন্স চার্লস সমালোচনার সম্মুখীন হন।

উইলিয়াম ও হ্যারির মা ডায়ানার মৃত্যুর পর ২০০৫ সালে তাদের বাবা প্রিন্স চার্লস ক্যামিলা পার্কারকে বিয়ে করেন। চার্লসের সাথে বিয়ের আগে ক্যামিলা সেনা কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু পার্কার-বোলসের স্ত্রী ছিলেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে—টম পার্কার-বোলস (৫১) এবং লরা লোপেস (৪৯)।

ক্যামিলা- অ্যান্ড্রুর সন্তানরা রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ হলেও, তুলনামূলকভাবে সাধারণ জীবনযাপন করেন। এ কারণেই প্রচারের আলো তাদের ওপর পড়েনি। টম একজন সফল খাদ্য লেখক এবং সমালোচক, যার সাতটি রান্নার বই রয়েছে। অন্যদিকে, লরা একজন আর্ট কিউরেটর। লন্ডনে 'Eleven' নামে একটি গ্যালারি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ক্যামিলার ছেলে টমের প্রাক্তন স্ত্রী সারা বুইসের সাথে দুটি সন্তান রয়েছে এবং লরার হিসাবরক্ষক স্বামী হ্যারি লোপেসের সাথে তিনটি সন্তান রয়েছে—মেয়ে এলিজা এবং যমজ ছেলে গাস ও লুই। প্রচারের আড়ালে থাকলেও সৎ ভাই-বোন উইলিয়াম ও হ্যারির জীবনের সাথে জড়িত। উইলিয়াম, কেট ও হ্যারি ২০০৬ সালে লরার বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, ২০১১ সালে উইলিয়াম ও কেটের বিয়েতে লরার মেয়ে এলিজা ব্রাইডসমেইড ছিল।