
মাগুরায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে যুবদল নেতা নয়ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০:৩

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসিতে তিনদিনব্যাপী আয়োজিত বিআইজিএফের কর্মসূচির শেষ দিনে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত
নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠন এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শুরু হয় ২১তম বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম ২০২৬। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘বুদ্ধিমত্তার যুগে ইন্টারনেট শাসন: অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল এবং মানবকেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ।’
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসিতে শেষ হয় তিনদিনব্যাপী আয়োজিত বিআইজিএফের কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শুরু হওয়া ফোরামের প্রথম দিনের কর্মসূচিতে ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, তথ্যের সুরক্ষা এবং ডিজিটাল নাগরিকদের অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)। সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হন জাতিসংঘের ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম সচিবালয়ের ডিজিটাল নীতি ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আনজা গেঙ্গো।
উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘের তথ্যসমাজবিষয়ক গ্রুপের মাল্টি-স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন গ্রুপের সদস্য ও রেসপনসিবল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাম্বাসেডর এ এইচ এম বজলুর রহমান।
তিনি বলেন, ইন্টারনেটে সাইবার হামলা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদাকে ডিজিটাল নীতির কেন্দ্রে রেখে প্রযুক্তির ক্ষতি হলে কার্যকরি প্রতিকার নিশ্চিত করা দরকার। বৈশ্বিক ইন্টারনেট গভর্ন্যান্সের আলোচনাকে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত করে বহুমুখী সংলাপ গড়ে তোলা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খলিল উর রহমান (অব.) ডিজিটাল বৈষম্যের পরিবর্তনশীল বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, একসময় ইন্টারনেট সংযোগের আওতা বাড়ানোই ছিল প্রধান লক্ষ্য। তবে এখন সংযোগের পাশাপাশি ব্যবহার, ডিজিটাল দক্ষতা, নেটওয়ার্কের মান এবং প্রযুক্তি থেকে সুফল পাওয়ার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নেটওয়ার্ক পৌঁছালেও সবাই সমানভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
নতুন অংশগ্রহণকারীদের জন্য ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ও বিভিন্ন ফেলোশিপের সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স বিষয়ে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে ‘এআই পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি, এমার্জিং টেকনোলজিস অ্যান্ড হিউম্যান-সেন্ট্রিক গভর্ন্যান্স’ এ গাজীপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে এআইয়ের যুগে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ’ বিষয়ে মূল বক্তব্য দেন। নারী সহিংসতা নিয়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি৷ প্রযুক্তির ব্যবহারে নিজেদের অসচেতনতায় ব্যক্তিগত তথ্য এআইকে দিয়ে দেয়া এবং একই ফোন একাধিক মানুষের ব্যবহার, প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতাসহ নানা কারণে নারীদের অনলাইন ব্যবহারে ঝুঁকির কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনএনআরসির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হীরেন পণ্ডিত। তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তাদের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বক্তব্য দেন নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) সক্ষমতা উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মো. নুরুল ইসলাম। এ সময় তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
তৃতীয় দিনের কর্মসূচিতে শিশু ও তরুণদের এআই ব্যবহারে সচেতন করতে ইয়ুথ লিডারদের নিয়ে অধিবেশন করে বিআইজিএফ। শিশুদের উৎসাহ দিয়ে সার্টিফিকেট দেয়া হয়।