
বিআইডব্লিউটিএর নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, পরীক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩২

ছবিটি ভিডিও থেকে নেয়া
হজ ও ওমরাহ লাইসেন্স নেই-এমন কোনো এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি যেতে বরাবরই নিষেধ করে আসছে হজ অ্যাসোসিয়েশন এজেন্সিস অব বাংলাদেশের (হাব) কর্মকর্তারা। তবুও থেমে নেই ওমরাহ যাত্রীদের নিয়ে লাইসেন্সবিহীন এজেন্সির প্রতারণা। আর লাইসেন্স আছে এমন এজেন্সিও থেমে নেই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে।
গত রমজানে ওমরাহ পালনে সৌদি আরব যান একই পরিবারের ১২ সদস্য। জনপ্রতি এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা দিলেও মদিনাতে নেমেই দেখেন কোনো মোয়াল্লেম নেই। এমনকি হোটেলে যেতে ঠিক করা নেই ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসও।
রোজা থেকে অনেক কষ্টে গাড়ি ভাড়া করে নির্দিষ্ট হোটেলে পৌঁছালে তাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় ওই ১২ জনের। ঢাকার এজেন্সি যে হোটেলের ছবি ও ভিডিও দেখিয়েছিল বাস্তবে তার কোনো মিল নেই।
অনেক কষ্টে মদিনায় সাত রাত পার করে মক্কায় পৌঁছালে মেলে ভালো হোটেল। কিন্তু সেই হোটেলের অবস্থানও ছিল পবিত্র কাবা শরীফ থেকে প্রতিশ্রুত দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি।
ভুক্তভোগী এক নারী জানান, দুর্ভোগ শুরু হয় মদিনা বিমান বন্দর থেকে। ওখানে গিয়ে কোনো যাতায়াতের বাস পায়নি। তাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি, যে হোটেল দেখিয়েছিল সেটাও তারা দেয়নি। একবারে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সমস্যার শেষ নেই।
ভুক্তভোগী আরেক পুরুষ বলেন, আমাদের যে সব কথা বলা হয়ছিল পুরোটাই ভূয়া ছিল। আমাদের তৃতীয় শ্রেণিমানের এক হোটেলে তুলে ছিল। তাদের (এজেন্সি) কথা ছিল ফাইভস্টার হোটেল দেয়ার। অনেক কষ্টে নিজেরা খুঁজে হোটেল বের করতে হয়েছে। সমস্যার কোনো শেষ ছিল না আমাদের। যে টাকা তারা নিয়েছে, তাতে যে সার্ভিস দেয়া কথা ছিল তার কিছুই তারা করেনি।
এখানেই শেষ নয়। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যে একের পর এক ফ্লাইট বাতিলের মধ্যেও যাত্রীদের জোর করে পাঠানো হয় জেদ্দা বিমানবন্দরে। পরে নিজেরা অন্য বিমানের টিকেট কেটে পরদিন ফেরত আসেন ঢাকায়।
এরইমধ্যে ধানমন্ডি থেকে অফিস গুটিয়ে চলে গেছে অভিযুক্ত সেই এজেন্সি। অন্যদিকে দায় স্বীকার করেছে ভাটারা এলাকার আরেকটি প্রতিষ্ঠান, যারা মিডিয়া হয়ে কাজটি করেছিল।
এদিকে ওমরাহ যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার কথা জানে হাবও।
হাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ মজুমদার সময় সংবাদকে বলেন, লাইসেন্সবিহীন এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ যাত্রী পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। এ কারণে ওইসব এজেন্সির মাধ্যমে মানবপাচার করার অভিযোগ আছে এবং স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে এমনও অভিযোগ আছে। সৌদি আরবে গিয়ে তাদের পাঠানো লোকজন বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হচ্ছে, ফলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছি, যাতে কোনো যাত্রী লাইসেন্সবিহীন কোনো এজেন্সির মাধ্যমে যেখানে যেতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করার জন্য।
কেউ ওমরাহ করতে এজেন্সির দ্বারা প্রতারিত হলে অভিযোগ জানানোর আহ্বান হাবের বলেও জানান তিনি।