
বিয়ের একদিন আগে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল যুবকের
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৪৮

আসন্ন কোপ৩১-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিষয়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন কোপ৩১-এ বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের লক্ষ্যে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া সভায় প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, বাংলাদেশের বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, গবেষক, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে কো৩১-এর কর্মপরিকল্পনা, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার এবং সম্মেলনকে সামনে রেখে গৃহীতব্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, কনফারেন্স অব পার্টিস (কোপ) জলবায়ু কূটনীতির একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন, অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়।
তিনি ক্লাইমেট জাস্টিস এন্ড একাউন্টেবিলিটি, লস এন্ড ডেমেজ ফান্ড, জাস্ট ট্রানজিশন এবং গ্রিন গোথ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তিনি জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক আর্থিক তহবিলসমূহ হতে অনুমেয়, পর্যাপ্ত ও স্বচ্ছ অর্থছাড় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই সঙ্গে তিনি সার্কুলার ইকোনোমি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশেষভাবে, তিনি বাংলাদেশের টেকসই ও প্রাকৃতিক পচনশীল তন্তু পাটের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন, যা কোপ৩১-এ তুলে ধরা হবে।
সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনায় বক্তাগণ সময়োপযোগী এ সভা আয়োজনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশংসা করেন। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা কোপ৩১-এর বিভিন্ন আলোচ্যসূচিতে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে মতামত দেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া উপস্থিত তরুণ প্রতিনিধিরাও সভায় তাদের মতামত, প্রত্যাশা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন এবং সম্মেলনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আরও জোরদার করার বিষয়ে মতামত দেন।
আলোচকরা বাস্তবায়নযোগ্য সমন্বিত কৌশল ও নীতিমালা প্রণয়ন উপর জোর দেন, যা কোপ৩১-পরবর্তী সময়েও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, সম্মেলনে সরকারের পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্যোগসমূহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আগামী ৯-২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় কোপ৩১ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসন্ন এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল হাই লেভেল সেগমেন্ট এবং বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে। এ ছাড়া এ সম্মেলনে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক, পচনশীল ও টেকসই প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ পাটকে তুলে ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাটজাত পণ্য, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি এবং এর বিপুল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে এ সম্মেলনে একটি বিশেষ প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হবে।