
টঙ্গীতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, সংকটে মেয়ে
সানবীর রুপল
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৩৬

পুরানো বাণিজ্যমেলা মাঠ। ছবি: সময় সংবাদ
পুরানো বাণিজ্যমেলা মাঠের মালিকানা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে গণপূর্ত ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। দুই পক্ষই নিজেদের মালিকানা দাবি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ে যাবেন তারা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি মালিকানার খালি মাঠেই সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে, স্থপতি ইকবাল হাবিব, পরিবেশগত দিক বিবেচনায় শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রশাসনিক কাঠামো নির্মাণ না করে বিকল্প স্থান খোঁজার পরামর্শ দেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে সচিবালয়। পাঁচ দশকে বেড়েছে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা বেড়েছে কাজের পরিধি। নতুন পুরাতন মিলিয়ে গাদাগাদি করে সাড়ে ১৭ একর জমিতে ১৩টি ভবনের ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুটে হচ্ছে না জায়গার সংকুলান। এর আগেও সচিবালয় স্থানান্তরে উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি।
শেরেবাংলা নগরে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে সাড়ে ৩১ একর জমিতে পার্কিং, লেক, সবুজায়নের নকশায় ৩৩ লাখ বর্গফুটের ১২ তলা বিশিষ্ট ১৪টি ভবন নির্মাণ করে সচিবালয় স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সরকারের সিদ্ধান্তের পরপরই বিরোধিতা করে মাঠটি উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ বা কৃষি গবেষণায় কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ড. এম সালাহউদ্দিন দাবি করেন জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি।
তিনি বলেন, আইনগতভাবে, দলিল-দস্তাবেজে এটি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি। সরকারকে এটি নিতে হলে ক্রোক করে নিতে হবে। সরকার দাবি করছে এটি সরকারের জায়গা, আর আমি দাবি করছি এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা। এই বিষয়টি আদালত সমাধান করবেন। সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা শুধুমাত্র সরকারকে বলতে চাই, আপনারা বিকল্প খুঁজে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বা পরিবেশের জন্য খালি রাখেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর জানান, জমিটি সরকারি সম্পত্তি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ শুরুর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। আলোচনা হচ্ছে স্থানান্তরের পর বর্তমান সচিবালয়ের ব্যবহার নিয়ে।
তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এটি সরকারের জায়গা। খালি জায়গা পেয়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতো। এই জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অবশ্যই এটি ব্যবহার করা হবে।
তবে পরিবেশগত দিক চিন্তা করে, সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিবের।
তিনি বলেন, ‘সকলের একটা পরামর্শভিত্তিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে প্রত্যাশিত। আমরা পরিবেশবাদীরা সে কারণে আবার পুর্নবিবেচনা করার কথা বলছি। বাধা দিচ্ছি না। আমরা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছি বর্তমানের না।’
লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালে নতুন স্থানে অফিস শুরু হবে।