
চাঁদার দাবিতে যুবকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রকাশ্যে হুমকির অভিযোগ
প্রতিবেদক, ভোলা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৯

ভোলায় স্পিকারকে ধানের শীষ প্রতীকের সোনার স্মারক দেয়া হচ্ছে। ছবি: সময় সংবাদ
বিচার ব্যবস্থায় যারা থাকে আওয়ামী লীগ তাদেরকেও কিনে ফেলে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ যে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছে, সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আমরা হতে দেব না। তাদের প্রতিমন্ত্রীর যে ৫০০ বাড়ি, তাদের নেতার ছেলে ইহুদি বিয়ে করে আমেরিকাতে কয়েকটি বিশাল প্রাসাদ গড়ে তুলেছে। এদের যে কি ধন-সম্পত্তি কল্পনা করতে পারবেন না। আসলে এগুলো হলো চোর। চুরি করে আর লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এশিয়ান প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় লালমোহন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন এসব কথা বলেন। সংবর্ধনার আয়োজন করে লালমোহন উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি।
তিনি বলেন, এদের (আওয়ামী লীগ নেতা) টাকার এত শক্তি, এদেরকে শাস্তি দেয়াও খুব মুশকিল। সবকিছু তারা কিনে ফেলে। বিচার ব্যবস্থায় যারা থাকে তাদেরকেও কিনে ফেলে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও শক্তভাবে করা হয় না। বিদেশের সরকারগুলোও ভাবে যে, হাজার হাজার কোটি টাকা আমার দেশে আনছে, আমার দেশে বিনিয়োগ করতেছে, আমার দেশে মিল-ফ্যাক্টরি করছে, ওরাও চুপ করে বসে থাকে।
স্পিকার বলেন, বিশ্বব্যবস্থায় নানা অনৈতিক কাজকর্ম হয়, সেগুলোতে প্রথম সারিতে আছে এই বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা যে বিশাল লুটপাট করে গেছে, রাজার হালে এরা বিদেশে আছে। ভারতে প্রসাদের মধ্যে থাকে, আমেরিকাতেও বড় বড় প্রাসাদ আছে। কানাডার বেগমপাড়া এলাকায় শত শত বাড়ি আছে আওয়ামী লীগের এমপিদের। দুই চারজন ভারতে বিয়ে-শাদিও করছে। আত্মীয়তা করে ভারতের নাগরিক হওয়ার পথে।
ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই দেখেছেন ঢাকায় একজন মহিলা এমপির নাম উঠে এসেছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে একটা হাসপাতাল দখল করার জন্য। তাকে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন গতকালকে বা পরশুদিন সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, তিনিও পদত্যাগ করেছেন। ইশরাক হোসেন কাজটা ভালোই করেছেন। তিনি পুলিশের উপর যারা গুলিবর্ষণ করে একদল মাদকসেবী, তাদেরকে দমন করতে গিয়েছিলেন। তবে তার হাতে অস্ত্র নেয়াটা ঠিক হয় নাই, এটা মানায় না। সরকারের প্রতিমন্ত্রী, তার সাথে তো বডিগার্ড আছে, পুলিশ বাহিনী যদি দুর্বল হয় দলীয় কর্মী বাহিনী যেতে পারে, কিন্তু একজন নেতা, মন্ত্রী পর্যায়ের, তাদের হাতে অস্ত্র আইনি হোক কি বেআইনি হোক, এটা শোভা পায় না। আমাদের জন্য এই গত ১৫-১৬ বছর ছিল এক মসীদৃপ্ত কলঙ্কময় অধ্যায়।
এরকম লুটপাট পৃথিবীর কোনো দেশে রাজনৈতিক নেতারা করতে পারে নাই, যেটা আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা এবং তার এই সন্ত্রাসী এমপিগুলো গত ১৫ বছরে করে গিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেড় বছর ছিল, বিএনপি সরকারেরও তো প্রায় এক বছর হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কারও তো বাড়িটাড়ি উঠে নাই কোনো জায়গায়। বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পায় নাই, লুটপাট করার সুযোগ পায় নাই, মাঝখান থেকে অন্যায় করলে মন্ত্রিত্ব, এমপিত্ব চলে যাচ্ছে। সুতরাং আমরা ন্যায়বিচারের একটা দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে চাই।
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বাবুলসহ স্থানীয় নেতারা।
সভার শুরুতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক স্পিকারকে ধানের শীষ প্রতীকের সোনার স্মারক দেন।
এছাড়া ইউনিয়ন পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পিকারে ফুলের শুভেচ্ছা জানান। সভায় দরিদ্রদের মধ্যে সরকারি সহায়তার চেক বিতরণ করেন।