
খুলনায় মোটরসাইকেলে এসে মুদি দোকানিকে গুলি
প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৪৪

ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে উদ্ধার করা হয় মরদেহ। ছবি: সময় সংবাদ
গোপালগঞ্জ শহরের তেঘোরিয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শেফালী বেগম (৪০) নামের এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় বদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরের বাথরুম থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তেঘোরিয়া এলাকার মিলন খানের বাড়িতে ছেলে শাহিন মিয়া (সিয়াম), তার স্ত্রী সানজিদা বেগম ও মা শেফালী বেগম ভাড়া থাকতেন। শনিবার বিকেলে ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে ছেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি পুলিশে জানান। পরবর্তীতে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেতর থেকে আটকানো দরজা ভেঙে বাথরুম থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের ছেলে সিয়াম জানান, গত ২৯ মে বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ (ডিভোর্স) হওয়ার পর থেকেই তার মা শেফালী বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এরপর প্রায় পাঁচ মাস আগে মাকে নিয়ে তারা এই বাসায় ভাড়া ওঠেন। সেখানে তার মা একটি আলাদা কক্ষে বসবাস করতেন। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখতেন এবং বের হতেন না।
এদিকে ছেলে সিয়ামের স্ত্রী সানজিদা বেগম জানান, তিন-চার দিন আগে তারা সপরিবারে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। শনিবার বাসায় ফিরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ এবং তীব্র দুর্গন্ধ পান। বাইরে থেকে অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা স্থানীয় পুলিশে খবর দেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দাবি করছেন, ছেলে ও পুত্রবধূর অবহেলা এবং অযত্নের কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বাথরুমের ভেতর বেশ কয়েকদিন ধরে শেফালী বেগমের মরদেহ পড়ে থাকলেও পরিবারের লোকজনের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া সন্দেহজনক।
গোপালগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাঈম হায়দার জানান, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।