
নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার ন্যায়বিচারের নিশ্চিয়তা দিলেন প্রতিমন্ত্রী পুতুল
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০:৩

পদ্মা সেতু-সংলগ্ন নদীতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের অভিযান। ছবি: সময় সংবাদ
মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতু-সংলগ্ন নদীতে গোসল করতে নেমে পর্যটকদের নিখোঁজ ও প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ট্রলারে ঘুরতে এসে অসাবধানতাবশত নদীতে নেমে পড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পর্যটকবাহী ট্রলারগুলোকে সতর্ক করা বা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো নির্দেশনা না থাকায় বারবার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।
সর্বশেষ সোমবার (২৬ অক্টোবর) পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছে গোসল করতে নেমে রাসেল (৪০) ও মারুফ (২২) নামে দুই ব্যক্তি নিখোঁজ হন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল টানা দুই দিন ধরে অভিযান পরিচালনা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এর আগে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি মাওয়া এলাকায় পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী আবু নাঈম। নিখোঁজের দুই দিন পর ২ ফেব্রুয়ারি তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট পদ্মা সেতুর ৩ নম্বর পিলারের কাছে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার পর লক্ষ্মণ মনি দাস (৫৭) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালের ২ জুন পদ্মা সেতুর ১৬ নম্বর পিলারের কাছে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) দুই শিক্ষার্থী সৌম্য দাস ও নুরুল হক নাফিউ। পরে তাদের দুজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একের পর এক এসব ঘটনায় মাওয়া ও পদ্মা সেতু-সংলগ্ন নদীতে গোসলের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, নদীর তীব্র স্রোত, হঠাৎ গভীরতা এবং পানির নিচের বিপজ্জনক ঘূর্ণিস্রোত সম্পর্কে ধারণা না থাকায় পর্যটকেরা সহজেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পদ্মা সেতু এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গোসল পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করা, নদীপাড়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, জরুরি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে পর্যটকবাহী নৌযানের ওপর নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নদীতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পর্যটকদের নিজস্ব সচেতনতা ও ট্রলার চালকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।’