
সাংবাদিক হত্যার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিলেন তথ্যমন্ত্রী
প্রতিবেদক, নেত্রকোনা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩৫

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেয়া আসামি সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব। ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাবেক সেনাসদস্য ও অনলাইন সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামি সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বকে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে প্রথম দফায় একদিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়া এ রিমান্ড আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে নেত্রকোনায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দির পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে। পাশাপাশি পিবিআইসহ অন্যান্য সংস্থাও ছায়া তদন্ত চালাচ্ছে। যেহেতু এটি সীমান্ত এলাকা এবং অপরাধীরা অপরাধ সংঘটিত করেই সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করে, তাই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে আশা করছি, খুব দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব (২৩) দুর্গাপুর পৌর শহরের শমসেরের ছেলে। এর আগেও তিনি এক পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নের উৎরাইল তেলুঞ্জিয়া মোড় এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আলিফ ফকির। তিনি সাবেক সেনাসদস্য ছাড়াও ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ পেজের পরিচালক ও ‘রূপসী বাংলা আইপি টিভি’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।
এ ঘটনার পরদিন ১৬ অক্টোবর রাতে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন ১৭ অক্টোবর রাতে অভিযান চালিয়ে অপূর্বকে আটক করে পুলিশ। পরে ১৮ অক্টোবর তাকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।