
ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজ নবায়নে বিআরটিএর নতুন নির্দেশনা
চট্টগ্রাম ব্যুারো
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:১৮

ত্রিপুরা পল্লীর শিশুরা। ছবি: সময় সংবাদ
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ত্রিপুরা পল্লী। এখনো পৌঁছায়নি এই পল্লীতে বিদ্যুতের আলো। এখানকার শিশুদের দুই ঘণ্টা হেঁটে যেতে হয় স্কুলে। পানির জন্যও পাড়ি দিতে হয় অনেকটা পথ। সপ্তাহের একদিন বৃহস্পতিবার ফসল বিক্রি করেই চলে তাদের জীবন। বলছিলাম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের ত্রিপুরা পল্লীর জীবন যুদ্ধের কথা।
ত্রিপুরা পল্লীতে বিদ্যুতের আলো পৌঁছায়নি এখনো। সন্ধ্যা নামলেই পাহাড়ের কোলঘেঁষা ঘরগুলো নিঃশব্দ হয়ে পড়ে; সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে যেন জীবনও ঢেকে যায় এক নিবিড় অন্ধকারে। যে কয়টি পরিবারের সামর্থ্য আছে, তারা সোলার প্যানেল বসিয়ে বৈদ্যুতিক বাতির ক্ষীণ আলো জ্বালিয়েছে—সেই আলো যেন অন্ধকারের বিরুদ্ধে ছোট্ট এক প্রতিবাদ।
জ্ঞানের আলোর সন্ধানে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের হাঁটতে হয় প্রায় দুই ঘণ্টা। পাহাড়ি পথ, ভেজা মাটি, কখনো কাঁটাঝোপ—সব পেরিয়ে তারা স্কুলে যায়।
রাতের পড়াশোনা তাদের কাছে যেন এক স্বপ্ন; সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়তে হয় শিশুদের। কারণ অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করার মতো আলো তাদের নেই।
নিত্য ব্যবহারের পানির জন্য যেতে হয় অনেক দূরে। পাহাড়ি ছড়াই তাদের একমাত্র ভরসা। শিশুদের কাঁধে, মায়েদের কোমরে জলের পাত্র এ দৃশ্য সেখানে নিত্যদিনের। একটু পানির জন্য কাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কখনো ছড়ার স্রোত শুকিয়ে গেলে জীবন যেন থমকে দাঁড়ায়।
তবু তাদের এই জীবনেও আছে আনন্দের দিন—প্রতিটি বৃহস্পতিবার। কেননা এই দিনেই তারা সংগৃহীত ফসল বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। কাঁধে ফসলের ঝুড়ি, পায়ে পাহাড়ি পথ—বৃহস্পতিবারের সূর্য তাদের কাছে যেন একটুখানি আশার বার্তা বয়ে আনে। বিক্রির টাকায় সংসারের প্রয়োজন মেটে; সেই টাকায় কখনো আসে এক মুঠো লবণ, কখনো একটি খাতা, কখনো বা শিশুর মুখে একটুখানি হাসি।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান বলেন, এলাকাটি খুবই দুর্গম, এখানে বিদ্যুৎসহ কোনো নাগরিক সুবিধা নেই। পানির ব্যবস্থাটাও খুবই দুরূহ। ১৯৮৬ সাল থেকে তারা এখানে বসবাস করছে। এই ত্রিপুরা পল্লীর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা যতটুকু সম্ভব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। সরকারি ভাবে যা করার করবো আমরা।
উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ মোহাম্মদ বলেন, আলো নেই, পানি নেই, যোগাযোগ নেই—তবু মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম আছে, আছে স্বপ্ন দেখার সাহস। সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে।