
গাজীপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, গ্রেফতার ২
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪২

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পুলিশের দীর্ঘদিনের যানবাহন সংকট দূর করতে ৫ হাজার ৮৩০টি নতুন যানবাহন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার দুটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আগামী ২৫ অক্টোবর (রোববার) পরিকল্পনা কমিশনে আয়োজিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রস্তাবিত মোট ব্যয়ের মধ্যে ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল (ডিউটি) যানবাহন কিনতে খরচ হবে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্প দুটি অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ মেয়াদে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে পুলিশের বিদ্যমান যানবাহনের ঘাটতির পটভূমিতেই মূলত এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, দেশের ৬৩৯টি থানায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা পাহারা দেয়ার জন্য মাত্র ১ হাজার ২৩৭টি সচল যানবাহন রয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি থানায় গড়ে দুটি যানবাহনও পড়ে না। উপরন্তু, বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশই ১০ বছরের বেশি পুরোনো। ফলে নিয়মিত টহল বজায় রাখা, জরুরি সাড়া প্রদান ও দ্রুত ফোর্স মোতায়েনে পুলিশ বাহিনীকে নানা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের আওতায় কেনা হবে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ যান, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী বিশেষ গাড়ি, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার এবং অপরাধস্থল পরিদর্শনের ভ্যান। এ ছাড়া নৌপথের নিরাপত্তা, টহল ও উদ্ধারকাজে গতি আনতে স্পিডবোট ও দেশীয় জলযান কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে এতে।
যানবাহন কেনার পাশাপাশি দুটি প্রকল্পেই চালক ও মেকানিকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অপারেশনাল প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার এবং বিশেষায়িত প্রকল্পের আওতায় ৯৬০ জন পুলিশ সদস্যকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
প্রকল্প দুটির অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে ‘হকস বে’ নামক প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্ভাব্য আর্থিক হিসাব অনুযায়ী প্রকল্প দুটির অর্থনৈতিক সুফল খরচের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে ১৫ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় অপারেশনাল প্রকল্পের বিষয়ে পর্যালোচনা হয়, যেখানে কিছু বিদেশি প্রশিক্ষণ বাতিলসহ পরিকল্পনা ও অর্থ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তাবনা সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর সুফল নির্ভর করবে সুষ্ঠু ক্রয়প্রক্রিয়া, চাহিদা অনুযায়ী বণ্টন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।
সূত্র: বাসস