
বরিশালে সারাদেশের ১৮ মৃৎশিল্পীকে সম্মাননা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৮

ফায়ার সার্ভিসের ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টের ফায়ার সার্ভিসের কোনো লাইসেন্স ছিল না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। এমনকি গেল জুনে পরিদর্শন করে রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করা এবং নোটিশ দেয়া হলেও সেটির কার্যক্রম চালু ছিল বলে জানান তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরে আয়োজিত ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক’ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, তিনতলা কাঠের তৈরি রিসোর্টটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ। সেখানে খাবার তৈরি করা হতো। আর দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের তদারকির আওতায় প্রয়োজনীয় সনদ ছিল না।
এর আগে শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ওই রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে একে একে আরও চারটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন।
এ ঘটনায় হতাহত ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া চারজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় পাওয়া মৃত ছয়জন হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।
অন্যদিকে আহত ছয়জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। এর মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও দুজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
দুপুর দেড়টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছিলেন, ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল তখন পর্যন্ত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ছয়জনকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ওই সময় একই তথ্য জানিয়েছিলেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেনও।
অপরদিকে সিআইডি কক্সবাজারের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ তখন জানিয়েছিলেন, একটি কক্ষে কিছু লোকজন আটকে থাকার কথা শোনা যাচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এর কিছুক্ষণ পরই আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার পর সকাল ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। বর্তমানে সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনার পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সবাই পালিয়েছেন।