
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ চান প্রধানমন্ত্রী
প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪৭

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি বেড়েছে। ছবি: সময় সংবাদ
শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে টানা ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে উৎসবের আমেজ। একদিকে ঝলমলে রোদ, অন্যদিকে নীল জলরাশির হাতছানি। তীব্র গরম উপেক্ষা করেই সমুদ্রের টানে সৈকতে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। কেউ নামছেন নোনাজলে, কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে মেতে উঠছেন জলকেলিতে। আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে বালুচরে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়। ঢেউয়ের গর্জন, মানুষের হাসি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে এই পর্যটনকেন্দ্র।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সরজমিনে দেখা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে। ছুটির এই সময়ে সমুদ্রস্নানের পাশাপাশি টিউবে ভেসে ঢেউয়ের দোল খাওয়া, জেড স্কিতে সাগরে ঘুরে বেড়ানো, বিচ বাইক চালানো ও ঘোড়ায় চড়ার মতো নানা বিনোদনে মেতে উঠছেন তারা। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোও ক্যামেরাবন্দী করছেন অনেকে।
পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরেছে সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বিচ বাইক, ঘোড়া, জেড স্কি, খাবারের দোকান ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবায় বেড়েছে ব্যস্ততা। পর্যটকদের আনাগোনায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন হোটেল ব্যবসায়ীরাও।
বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন পারভীন আক্তার। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ঘুরতে আসার পরিকল্পনা অনেক দিনের হলেও এবারই প্রথম সবাই মিলে কক্সবাজারে এসেছেন তারা।
পারভীন আক্তার বলেন, ‘সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি, বাইকে চড়া, ছবি তোলা-সব কিছুই দারুণ উপভোগ করছি। শনিবার ইনানী বিচ ও হিমছড়িসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। গরম কিছুটা বেশি হলেও পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ করছি, তৈরি করছি সুন্দর কিছু স্মৃতি। সব মিলিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণ আমাদের জন্য দারুণ আনন্দের।’
পর্যটক শামীম আহমেদ বলেন, ‘ছুটি কাটাতে সবারই ভালো লাগে, আর সেটা পরিবারের সঙ্গে হলে আনন্দটা হয় আরও বেশি। ব্যস্ত জীবনে সব সময় পরিবারকে নিয়ে এভাবে সময় কাটানোর সুযোগ হয় না। তাই ছুটি পেয়ে কক্সবাজারে চলে এসেছি। আরও দুয়েক দিন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় কক্সবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা এবং এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করার ইচ্ছা রয়েছে।’
প্রথমবারের মতো পরিবার ও সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজারে এসেছেন পর্যটক রাখী রহমান। তিনি বলেন, ‘কর্মব্যস্ত জীবন থেকে একটু ছুটি পেয়ে পরিবার ও সন্তানকে নিয়ে প্রথমবার কক্সবাজারে এসেছি। এখানে এসে অনুভূতিটা অসাধারণ, বিশেষ করে সন্তানকে খুব আনন্দ করতে দেখে ভালো লাগছে। সমুদ্রের প্রতি মানুষের একটা আলাদা টান রয়েছে। পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর জন্য সমুদ্রসৈকতের মতো ভালো জায়গা আর হয় না। পূজার ছুটিতে দীর্ঘ সময় অবকাশ যাপনের সুযোগ পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত।’
দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়ায় সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। পার্ল ও বার্মিজ পণ্যের দোকান থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন বিনোদনসেবায় বাড়ছে ব্যস্ততা।
সৈকতের পার্ল ব্যবসায়ী মো. কামাল বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর টানা ছুটি পেয়ে আমরা বেশ আনন্দিত। সরকারি ছুটির পাশাপাশি দুর্গাপূজার ছুটি থাকায় এই সময়টা আমাদের জন্য বেশ ভালো কাটছে। সব মিলিয়ে আমরা খুবই খুশি।’
বার্মিজ পণ্যের দোকানি ইউনুছ আলী বলেন, ‘আজ থেকে টানা ছুটি শুরু হওয়ায় পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যাচ্ছে। আশা করছি, আগামীকাল ও পরশু দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। ছুটি শেষে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও জমজমাট হবে বলে প্রত্যাশা করছি।’
হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার লোকমান হোসাইন অপু সময় সংবাদকে বলেন, ‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়ছে। হোটেলে পর্যটকদের বেশ ভালো চাপ রয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে। ছুটিকে ঘিরে পর্যটকদের যে উপস্থিতি ও সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলাম, আশা করছি তা পূরণ হবে।’
সৈকতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
সি সেফ প্রজেক্টের কমিউনিটি এডুকেটর নাছিমা আক্তার সময় সংবাদকে বলেন, ‘বর্তমানে ছুটি চলায় কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটছে। তাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিশুদের প্রতি সব সময় নজর রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তাদের একা পানিতে নামতে দেয়া যাবে না। শিশুদের হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানিতে নেমে বিপদে পড়ার ঘটনাও ঘটে। তাই শিশুদের নিয়ে সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তাদের হাঁটু পানির বেশি গভীরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
নাছিমা আক্তার আরও বলেন, সমুদ্রে নামার আগে জোয়ার-ভাটার সময়সূচি ও আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেয়া জরুরি। পাশাপাশি লাইফগার্ডের নির্ধারিত এলাকার কাছাকাছি থাকতে হবে, যাতে বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত সহায়তা পাওয়া যায়।
পর্যটকদের সচেতন করতে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমেও নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি পেছনে ফেলে নোনাজলের সান্নিধ্যে প্রশান্তি খুঁজছেন পর্যটকেরা। শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত মেরিন ড্রাইভের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেও ছুটছেন অনেকে।
সমুদ্রের ঢেউ, বালুচর আর নীল জলরাশির টানে পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন তারা। সব মিলিয়ে পূজার দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। পর্যটকদের এই উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে সৈকতকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসায় আরও গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।