
দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতায় ২৭ পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি: আইজিপি
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৭

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া-মিরুখালী ছয় কিলোমিটার সড়ক এখন চার উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। ছবি: সময় সংবাদ
ভাঙাচোরা সড়ক, ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ আর কাদাপানিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া-মিরুখালী সড়কে চলাচলকারী চার উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। এক বছরের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রায় তিন বছরেও তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। উল্টো কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় সড়কটির বেহাল দশা আরও প্রকট হয়েছে।
ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক দিয়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও ভান্ডারিয়া এবং পার্শ্ববর্তী জেলা ঝালকাঠি ও বরগুনার দুটি উপজেলার মানুষ চলাচল করেন। সড়কজুড়ে অসংখ্য গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার কাদায় একাকার। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে ছোট ছোট ডোবার সৃষ্টি হয়। এতে গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় যানবাহনকে। কখনো গর্তে আটকে যাচ্ছে গাড়ি, আবার কোথাও যানবাহন থেকে নেমে কাদাপানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে পথচারীদের।
প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শত শত শিক্ষার্থী, রোগীসহ হাজারো মানুষ। চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যাও কম নয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
২০২৩ সালের জুনে সড়কটির ছয় কিলোমিটার সংস্কারকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় আওয়ামী লীগ নেতা মিরাজুল ইসলামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল-কে। দুটি প্যাকেজে এ কাজের ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম প্যাকেজের ব্যয় ৫ কোটি ৫৪ লাখ এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের ব্যয় ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। কিন্তু ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি চলে যায়। এরপর থেকে সড়কের সংস্কারকাজ আর হয়নি।
সড়কটিতে নিয়মিত চলাচলকারী অটোরিকশাচালক সিরাজুল শেখ বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে এ সড়কের কাজ পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা। তিনি নামমাত্র কাজ করে টাকা তুলে নিয়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের কাজ ফেলে রাখায় আমরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর সড়কটি পড়ে থাকায় বিভিন্ন জায়গায় ছোট-বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বর্ষার সময় কোনো কোনো জায়গায় হাঁটুপানি জমে থাকে। এ কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। আমাদের গাড়ি চালাতে যেমন কষ্ট হয়, যাত্রীদেরও তেমনি ভোগান্তি পোহাতে হয়।’
এ বিষয়ে পিরোজপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান বলেন, বিভিন্ন কারণে থেমে থাকা সড়কগুলোর কাজ বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত থেমে থাকা কাজগুলো শুরু করা হবে।