
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন
ব্রেকিং
প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৭

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা নথিপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে শনাক্ত করেন। ছবি: সময় সংবাদ
ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইসের সাহায্যে রোগ নির্ণয়ের দাবি করে প্রায় ১৫ বছর ধরে চিকিৎসাসেবা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আলীমুল ইসলাম (৪৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
চিকিৎসক হিসেবে বৈধ সনদ দেখাতে না পারায় বরিশালের বাবুগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এ সময় তার ব্যবহৃত চিকিৎসার সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কলেজ গেট এলাকার এনএমএস ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আলীমুল ইসলামের দেখানো সনদ ও কাগজপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইসের সাহায্যে রোগ নির্ণয়ের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখতেন আলীমুল ইসলাম। বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকাতেও তিনি নিয়মিত রোগী দেখতেন।
আলীমুল ইসলাম তার ব্যবস্থাপত্রে নামের আগে ‘ডা.’ লিখতেন। সেখানে এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণ নেয়ার তথ্য উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জিজনিত রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলেও দাবি করতেন তিনি। তবে এসব যোগ্যতার পক্ষে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তার নথিপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে শনাক্ত করেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক পরিচয়ে সেবা দেয়ার অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালানো হয়। ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করলেও আলীমুল ইসলাম বৈধ যোগ্যতার সনদ দেখাতে পারেননি। প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে রোগী দেখার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
ইউএনও আরও বলেন, আলীমুল ইসলামকে প্রথমবারের মতো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অভিযানের সময় তার ব্যবহৃত চিকিৎসার ডিভাইস ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।