
দুর্গাপূজায় বর্ণিল আলোয় সেজেছে সিরাজগঞ্জ, সন্ধ্যা নামতেই দর্শনার্থীদের ভিড়
সুজাউদ্দিন রুবেল, কক্সবাজার
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১:১০

দেবী দুর্গার প্রতিমা। ছবি: সময় সংবাদ
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। দুর্গোৎসবকে ঘিরে কক্সবাজার জেলার ৩২৪টি পূজামণ্ডপে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। এ আয়োজন ঘিরে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলা কমিটি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার কক্সবাজার জেলায় ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৪টি প্রতিমাপূজার মণ্ডপ এবং ১৭০টি ঘটপূজার মণ্ডপ। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ছয়টি।
জেলায় এবার সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ রয়েছে চকরিয়া উপজেলায়, ৭১টি। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় ৪৪টি, রামুতে ৩৭টি, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩১টি, ঈদগাঁওয়ে ২৯টি, মহেশখালী উপজেলায় ২৮টি, কক্সবাজার পৌরসভায় ২৬টি, চকরিয়া পৌরসভায় ২৫টি, পেকুয়া ও উখিয়ায় নয়টি করে এবং মহেশখালী পৌরসভা ও টেকনাফে ছয়টি করে মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি মণ্ডপ কমিটি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু। তিনি জানান, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের যাতায়াত, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে সম্প্রীতির মিলনমেলা বসবে। এতে পূজারি ও দর্শনার্থীসহ অন্তত চার থেকে পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাশ জানান, পূজা উপলক্ষে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব শেষ হবে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্য, ট্রাফিক পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় পূজার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এসআরবি-১৫ ব্যাটালিয়ন। এ সময় ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মাহমুদুর রহমান জানান, পূজার সার্বিক নিরাপত্তায় প্রতিটি মণ্ডপকেন্দ্রিক এসআরবির টহল থাকবে। নিয়মিতভাবে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বিক প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে।