
খালে ভাসা ড্রামে মিলল নারীর মরদেহ, শরীরে অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৫

খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি নিত্যদিনের বাজারে স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও ব্যয় বাড়ছে ভোক্তার। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের তথ্য বলছে, এক বছরের হিসাবে সাবান, শ্যাম্পু, স্যানিটারি ন্যাপকিনের দাম বেড়ে ছাড়িয়ে গেছে গড় মূল্যস্ফীতি। ভোক্তার কাঁধে চাপ বাড়লেও নিজেদের নিরুপায় দাবি করে খুচরা বিক্রেতারা।
তারা বলছেন, বেশি দামে কেনায় বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এ অবস্থায়, দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা পর্যালোচনায় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে সরকারের বাড়তি নজরদারি চায় ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন- ক্যাব।
ক্রেতারা বলছেন, প্রতিটি জায়গায় খরচ বেড়েছে। কম দামে কিছু পাওয়া যায় না। দ্রব্যমূল্য এতো বেশি এখন টিকে থাকাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
এই ক্ষোভ কেবল এক-দুই দিনের নয় বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সাধারণ মানুষের।
যে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দিয়ে এক কেজি চাল কেনা যায়, সেই একই টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে একটি সাবান কিনতে। নিত্যপণ্যের বাড়তি খরচ সংসারের বাজেটকে আরও কোণঠাসা করে তুলছে।
এক ক্রেতা বলেন, আয়ের চেয়ে খরচ বেশি, যার যোগান দেয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বিক্রেতা বলেন, এক কেজি হুইল পাউডার ১৩০ টাকায় বিক্রি করতাম। এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। একটি সাবান আগে ৪০ টাকায় বিক্রি করতাম। এরপর দাম হলো ৭৫ টাকা, এখন হয়েছে ৮৫ টাকা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তাদেরও বিনিয়োগ বাড়াতে হচ্ছে । বিপরীতে উচ্চমূল্যের চাপে বিক্রি কমছে।
কয়েকজন বিক্রেতা বলেন, দাম বাড়ায় ক্রেতারা আগের মতো কিনতে পারছে না।
এক ক্রেতা বলেন, বিভিন্নভাবে লোভ দেখাচ্ছে। পণ্যের সঙ্গে নানা ধরনের গিফট দিচ্ছে। তবে পণ্যের দামের সঙ্গেই ওই গিফটের দাম নিয়ে নিচ্ছে।
ই-কমার্স ও গ্রোসারি প্ল্যাটফর্ম'র তথ্য অনুযায়ী, গেল এক বছরে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম দাঁড়িয়েছে ১৯০ টাকায়। বোতলজাত শ্যাম্পুর দাম বেড়ে ঠেকেছে ৩০০ টাকায়। টুথপেস্ট, টিস্যু, হ্যান্ডওয়াশ ও স্যানিটারি ন্যাপকিনের মতো জরুরি পণ্যের দামও বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। সব মিলিয়ে, ঊর্ধ্বমুখী খাদ্যপণ্যের বাজার দরের সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দরকারি পণ্যের দাম গেল এক বছরে বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপাতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, কোম্পানিগুলো তাদের ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। ১০০ গ্রামের পণ্য একদিকে যেমন দাম বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে প্যাকেটে পণ্যের পরিমাণও কমাচ্ছে। এটা এক ধরনের ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা। সেই ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে বসে বিশ্লেষণ করা দরকার।
তিনি আরও বলেন, কর্পোরেট সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র দাপট থামাতে না পারলে নিত্যপণ্যের বাজার সহনশীল হবে না।